অজন্তা-ইলোরা: দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৬, ১৩:১০আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৩:১০

যদি ভ্রমণ মানে আপনার কাছে শুধু পাহাড়, সমুদ্র বা কেনাকাটা না হয়ে ইতিহাস, শিল্প আর মানুষের সৃজনশীলতার বিস্ময়কে কাছ থেকে দেখা হয়— তাহলে অজন্তা ও ইলোরা আপনার জন্য। সত‍্যজিত রায়ের ফেলুদা সিরিজ যারা পড়েছেন তাদের কিছু ধারণা আছে এই স্থান নিয়ে কিন্তু বেশিরভাগেরই জানা নেই কী এবং কোথায় এই অজন্তা ইলোরা। ভারতের মহারাষ্ট্রের এই দুই বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল এমন এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেয়, যেখানে পাথর শুধু পাথর নয়; প্রতিটি দেয়াল, স্তম্ভ ও ভাস্কর্য যেন হাজার বছরের গল্প বলে।

বলে রাখা ভালো, অজন্তা ও ইলোরা সবার জন্য সমান আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। তবে এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে কিছু মানুষের কাছে।

অজন্তা মূলত বৌদ্ধ গুহাবিহার। ধ্যান, নীরবতা ও আত্মচিন্তার পরিবেশ আজও সেখানে অনুভব করা যায়।

ইলোরার বিশেষত্ব হলো— একই স্থানে বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন ধর্মের স্থাপত্য পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার এক অসাধারণ উদাহরণ এটি।

অজন্তা-ইলোরা শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি মানুষের সৃজনশীলতা, বিশ্বাস, ধৈর্য ও প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য দলিল। হাজার বছর আগে মানুষ কীভাবে পাথরের বুকেই নির্মাণ করেছিল শিল্পের এক অমর জগৎ।

ধ্যান, নীরবতা ও আত্মচিন্তার পরিবেশ আজও সেখানে অনুভব করা যায়

ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক স্বপ্নের ঠিকানা

যারা প্রাচীন সভ্যতা, রাজবংশ, ধর্মীয় ইতিহাস বা প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহী, তাদের কাছে অজন্তা ও ইলোরা এক উন্মুক্ত পাঠশালা। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে শুরু করে প্রায় এক হাজার বছরের শিল্প ও স্থাপত্যের বিবর্তন এখানে চোখের সামনে ধরা দেয়। একটি গুহা থেকে আরেকটি গুহায় হাঁটতে হাঁটতে বোঝা যায়, সময় কীভাবে মানুষের বিশ্বাস, শিল্পচর্চা ও প্রযুক্তিকে বদলে দিয়েছে।

অজন্তার দেয়ালচিত্র পৃথিবীর প্রাচীনতম সংরক্ষিত চিত্রকলার অন্যতম নিদর্শন। অন্যদিকে ইলোরার কৈলাস মন্দির একটিমাত্র পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে– যা আজও প্রকৌশলীদের বিস্মিত করে। যারা স্থাপত্য, ভাস্কর্য, ডিজাইন বা চারুকলা ভালোবাসেন, তাদের জন্য প্রতিটি গুহাই যেন একটি আলাদা প্রদর্শনী।

ফটোগ্রাফারদের জন্য অন্যরকম আলো

অজন্তার গুহার ভেতরের আলো-আঁধারি, পাহাড়ের বাঁক, পাথরের খোদাই আর ইলোরার বিশাল স্থাপত্য সব মিলিয়ে এটি ফটোগ্রাফির জন্য অসাধারণ একটি গন্তব্য। তবে অনেক গুহায় ফ্ল্যাশ ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই স্বাভাবিক আলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি থাকলে আরও ভালো ছবি পাওয়া সম্ভব। ইতিহাস বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে যদি সন্তানকে বাস্তবে অতীতের সঙ্গে পরিচয় করাতে চান, তাহলে অজন্তা-ইলোরা হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

যদি ভ্রমণ মানেই আপনার কাছে বিলাসবহুল রিসোর্ট, সমুদ্রসৈকত, রাতের বিনোদন বা শপিং হয়, তাহলে অজন্তা-ইলোরা হয়তো প্রথম পছন্দ হবে না। এখানে দীর্ঘ সময় হাঁটতে হয়, অনেক সিঁড়ি ভাঙতে হয় এবং ধৈর্য নিয়ে প্রতিটি গুহা দেখতে হয়। তাই শারীরিকভাবে কিছুটা প্রস্তুত থাকাও জরুরি।

ভ্রমণের আগে যা জানা দরকার

অজন্তা ও ইলোরা একই দিনে ঘুরে দেখা সম্ভব হলেও আলাদা দিন রাখলে অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ হয়। অক্টোবর থেকে মার্চ ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। আরামদায়ক জুতা, পানির বোতল ও হালকা পোশাক সঙ্গে রাখুন।

/আরকে/
সম্পর্কিত
খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ 
মিম, রিলস ও পোস্টারে প্রতিবাদ: যন্তর মন্তরে তরুণদের অস্ত্রের নাম হাস্যরস
যন্তর মন্তরে লাঠিচার্জ করা পুলিশ কর্মকর্তাদের আদালতে তোলার হুঁশিয়ারি সিজেপি নেতার
সর্বশেষ খবর
জুলাই অভ্যুত্থান: বিসর্জিত প্রাণের নীরব আর্তনাদ
জুলাই অভ্যুত্থান: বিসর্জিত প্রাণের নীরব আর্তনাদ
শ্বশুরবাড়িতে গভীর রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা 
শ্বশুরবাড়িতে গভীর রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা 
সালমান শাহ হত্যা: ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
সালমান শাহ হত্যা: ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২২৪০ মামলা
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২২৪০ মামলা
সর্বাধিক পঠিত
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের
‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের