গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা এর আগে মওকুফ হওয়ায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘২৪ আসামির মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আসান মুজাহিদ, সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভুইয়া মারা গেছেন। এখন আসামি দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।’ তিনি আরও জানান, ‘লিভ টু আপিল দাখিল করা হয়েছে। যা নির্ধারত হয়েছে শুনানির জন্য।’
এদিকে রবিবার অন্য আসামি এম কে আনোয়ার, ইসমাইল হোসেন সায়মন, এ কে রশিদ উদ্দিন আহমদের উপস্থিতির জন্য সময় চাওয়া হলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
এ সময় আদালতে হাজির ছিলেন, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, জাহানারা আনসার, এ কে মুসা, এহসান ইউসুফ, মো, লুৎফুল কবির, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সৈয়দ গালিব আহমেদ, সৈয়দ তানভীর আহমেদ, এ এস এম শাহাদাত হোসেন, এ এম সানোয়ার হোসেন ।
সায়মন, আমীর খসরু, সানোয়ার এবং রশিদের পক্ষে শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়।
ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ হওয়ায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন শামসুল ইসলাম।। আর কমোডর জুলফিকার আলী, শাহজাহান এস হাসিব আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ খারিজ হওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে এ মামলায় প্রথম ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আবু আহমেদ জমাদার গত ১৩ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
জরুরি অবস্থার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এ মামলাটি চার্জশিট দাখিলের পর বর্তমানে চার্জ গঠনের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদার রিট আবেদনে সাত বছর আগে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই সময় জারি করা রুল খারিজ করে গতবছর ৫ আগস্ট রায় দেন বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের বেঞ্চ। ওই সময় মামলার স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আদালত।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ওই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে দুই মাসের মধ্যে খালেদার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। অবশ্য রায়ের অনুলিপি পেলে আপিল বিভাগে যাবেন বলে আগেই জানিয়ে রেখেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী।
এর পরদিনই খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় দুদক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।
আরও পড়তে পারেন: কেরির সাক্ষাৎ লাভের চেষ্টা বিএনপির
/এসআইটি/এমএনএইচ/