এ সব ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বেতন কাঠামো তৈরি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। যা বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে তা আবার মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ৪১টি ট্রাইব্যুনাল গঠনে সংক্রান্ত আইন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রশাসনিক পুনঃবিন্যাস সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (দ্য ন্যাশনাল ইম্প্লিমেন্টেশন কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রি অরগানাইজেশন-রিফরম-নিকার) পাঠানো হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নিকার-এর পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে। নিকারের অনুমোদন পেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ ট্রাইব্যুনালগুলো কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই সূত্র।
আইন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে এ সংক্রান্ত অপরাধের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত বিচার কার্য সম্পন্ন করতেই অধিক সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। সরকারের উর্ধ্বতন মহল মনে করে বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার অপরাধের বিচার হয় না। আবার হলেও তা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। ফলে এক সময় সংঘটিত অপরাধ সাধানুষ ভুলেও যায়। এ কারণে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং শিশুদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ সব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অল্প সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে নারী এবং শিশুর প্রতি সহিংসতা কমবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ মোহম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, প্রস্তাবটি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কমিটি ও বিভাগের অনুমোদন পাওয়ার পর তা অতি দ্রুত কার্যকর হবে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
/ এমএনএইচ/