এলাকাবাসি ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই পুরো বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি ঘরের লোকজন নিজেদের কিছু মালামাল বের করতে পারলেও বাকি সবাইকে জীবন নিয়ে পালায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের তিনটি স্টেশনের মোট ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চেষ্টায় প্রায় একঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন বাইরে না ছড়ালেও পুড়ে গেছে বস্তির সবগুলো ঘর। সঙ্গে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সমস্ত জিনিসপত্র।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, জায়গাটি ডায়মন্ড টেনারির মালিক মৃত হাকিম হাজীর। তার মৃত্যুর পর ছেলেরা এটাকে ভাড়া দিয়েছে কয়েকজন স্থানীয়র কাছে। পরবর্তীতে তারা সাধারণের কাছে ভাড়া দেয়। বস্তির অধিকাংশ লোকজনই দিনমজুর।
ক্ষতিগ্রস্থ বস্তিবাসীরা জানান, বস্তিতে ৫০টির মতো বড় টিনের ঘর ছিল। সেখানে প্রায় তিন শতাধিক ছোট কক্ষ ছিল। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে কক্ষের সংখ্যা দেড়শ।
বস্তিতে ঘরগুলোর কাঠামো সম্পর্কে জানাগেছে, প্রায় ১৫ ফুট নিচু জমিটিতে বাঁশ দিয়ে সমতলের সমান করা হয়েছিল। তার ওপর পাটাতন তৈরি করে টিনশেডের ঘর করে ভাড়া দেওয়া হয়। ঘরের ভেতর কক্ষগুলো আয়তন আনুমানিক ৬ ফুট বাই ৬ ফুট।
বস্তির বাসিন্দা ভ্যান চালক ফজলু মিয়া বলেন, ‘কেমনে আগুন লাগল কইতে পারি না। শুধু শুনলাম আগুন, আগুন। বউ আর ছোট ছেলেটারে নিয়া বাইর হইয়া আইছি। বড় ছেলেটা বাইরেই ছিল। তারে পরে পাইছি। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু নিয়া আসতে পারি নাই। যা ছিল, সব এখন ছাই।’
রাস্তার পাশেই দোকান আর ঘর ছিল রহিমা আক্তারের। দোকানের জিনিস কিছু আনতে পারলেও ঘরের কিছুই আনতে পারেননি বলে জানান তিনি।
রহিমা বলেন, ‘আগুন লাগছে শুইনাই দোকানের মাল আগে বাইর কইরা রাস্তায় আনছি। ঘরের ঢুকার আগেই আগুন আমাদের এইখানেও আইয়া লাগে। রাস্তায় দাঁড়াইয়া শুধু চাইয়া চাইয়া দেখলাম। চোখের সামনে সব পুইড়া গেল।’
আগুন লাগার খবরে বালুরমাঠ এলাকায় ছুটে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মো. নূরে আলম। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি এলাকার বিত্তশালীদের সাহায্যে এগিয়ে আসারও অনুরোধ জানান।
উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘প্রায় একঘণ্টায় আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। আগুন আশেপাশে ছড়াতে পারেনি।’
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মীর আলিমুজ্জামান বলেন, ‘পুরা বস্তিটা বাঁশের হওয়ায় আগুন লাগার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ঘরের জিনিস বের করা গিয়েছিল। তবে বেশিরভাগই আনা সম্ভব হয়নি। দৌড়ে বের হওয়ার সময় অল্প আহত হলেও গুরুতর আহতের কোনও খবর আমরা এখনও পাইনি।’
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোনের সহকারি পরিচালক সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে রান্নার ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছি। সার্বিক বিষয়ে জানতে আগামীকাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’
/আরজে/এনএস/