আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে এভাবেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছিলেন রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে অপহৃত হওয়া ডা. ইকবাল মাহমুদের বাবা এ কে এম নুরুল আলম।
আজ শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল আলম বলেন, ‘মাঝরাতে বাস থেকে আমার ছেলের সঙ্গে আরও দুইজন নামলো, তারা কে? তারা কি গুপ্তচর হিসেবে তার সাথে এসেছে? বাস থেকে নামার পর ইকবালকে একটি মাইক্রোতে করে নিয়ে গেল অপহরণকারীরা। পিছু পিছু গেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়ি। এই গাড়িটি কার, নম্বর প্লেটের নম্বর কত? কিছুই জানাতে পারছে না পুলিশ। বলছে, আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনও অগ্রগতি তারা দেখাতে পারছে না।’
গত ১২ ও ১৫ ডিসেম্বর ডা. ইকবালকে নিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে নুরুল আলম পুলিশের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রযুক্তির এই যুগে ক্লুবিহীন ঘটনাও তাৎক্ষণিকভাবে উদঘাটনে সক্ষম বাহিনীর সদস্যরা আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে পারছে না, এটা মানতে পারছি না। হাইকোর্টে রিটের জবাবে বিভিন্ন বাহিনী তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছে, তারা আমার ছেলেকে উদ্ধারে দেশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে। অথচ যেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে তার কয়েকগজ দূরেই সিসিটিভি রয়েছে। রাস্তায় পুলিশের অনেকগুলো চেকপোস্ট আছে। এইগুলো তল্লাশি করলেই অপহরণে জড়িত গাড়িগুলোর গতিবিধি ও গন্তব্য জানা সম্ভব। আমার ছেলেকে উদ্ধার করাও সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
সংবাদ সম্মেলনে তার ছেলেকে নিয়ে জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান নুরুল আলম। আদালতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছে, তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। কিন্তু পত্রিকার প্রতিবেদক এত তথ্য কোথায় পান, তা জানতে চান তিনি।
গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে অপহৃত হন ডা. ইকবাল মাহমুদ। ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ৩টা ১০ মিনিটে রয়েল কোচ নামে একটি বাস সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে ধানমণ্ডি ১ নম্বর সড়কের কাছে এসে থামে। বাস থেকে নেমে দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকজন ড. ইকবালকে ঘিরে ধরে ও পেছন থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল মাইক্রোবাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে। অপহরণের ঘটনায় পরদিনই ধানমন্ডি থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। সেদিন রাত ১২টায় মামলা নেয় পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল মাহমুদ ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যোগদান করেন। পরে লক্ষ্মীপুর থেকে বদলি হয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে আসেন তিনি। গত ১০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অ্যানেসথেশিয়া বিষয়ে দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় আসেন। ছুটি কাটিয়ে ঢাকা ফেরার সময় ধানমন্ডি থেকে অপহৃত হন ডা. ইকবাল।
পুলিশের তদন্তে অসন্তুষ্ট হয়ে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন ড. ইকবাল মাহমুদের বাবা এ কে এম নুরুল আলম। রবিবার (১১ ডিসেম্বর) আগামী ১০ দিনের মধ্যে ড. ইকবাল উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টের নির্দেশে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, অপহৃত চিকিৎসকের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজে পেতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া প্রতিবেদনে ‘অবজেকশন’ জানিয়েছেন বলে জানান নুরুল আলম।
তবে সবকিছুর পরও ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরই আস্থা রাখতে চান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান নুরুল আলম।
/আরজে/টিআর/