আজ শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ডিআরইউ সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাপার নেতারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘গত ১৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে আমাকে পুলিশ সিলেটের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে মনে করেছি, সুন্দরবন আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় তারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু থানায় যাওয়ার পর পুলিশ একটি ফেসবুক ইনবক্সের স্ক্রিনশটের প্রিন্ট দেখিয়ে জানতে চায় ওই মেসেজ আমার লেখা কিনা।’
কিম বলেন, ‘ওই কাগজে যা ছিল তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। প্রিন্ট করা ওই কাগজে আমার ইনবক্সের মতোই দেখতে ছবি ছিল। তাতে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামে বিকৃত মেসেজ লেখা। কিন্তু ওই মেসেজ আমার লেখা না। পুলিশ তখন আমার ফেসবুকেও এমন কিছুই পায়নি। আমি নির্দোষ দেখে চৌদ্দ ঘণ্টা পর পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয় এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেয়। আমি পরে মামলা করেছি।’
পুলিশ স্ক্রিনশট কোথায় পেয়েছে জানতে চাইলে কিম বলেন, ‘ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে এই স্ক্রিশটটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে পুলিশ সেখানে আমার নাম দেখতে পেয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার পর থেকে আমি জীবনের শঙ্কায় আছি। বহু লোক আমাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমাকে হত্যার জন্য চার লাখ টাকা পুরষ্কারও ঘোষনা করা হয়েছে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে।’
বাপার সহ-সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, ‘বাপার মূল কাজ পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করা। কিন্তু আজ বাপা সংবাদ সম্মেলন করছে সাইবার ক্রাইম নিয়ে, আমাদেরকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার প্রতিবাদে। আমরা পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করি বলেই আজ আমাদের ওপর হুমকি আসছে। আমাদের পরিবেশ আন্দোলনের নেতা কিম মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ। আজ তাকেই হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব, কার কাছে যাব?’ সরকার ও প্রশাসন চাইলেই এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও বাপার সহ-সভাপতি ড. রাশেদা কে চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা প্রায়ই শুনি, সাধারন মানুষ প্রতিনিয়ত সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের অপরাধ এখনও দেশে ওপেন, সিকিউরড নয়। যে কেউ চাইলেই যে কাউকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে। ফলে এ বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন সংবাদ সম্মেলনে কিমকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাপার নির্বাহী সদস্য শারমিন মুশরিদ, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তোবারক হোসন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি সৈয়দ বজলুল করিম প্রমুখ।
/আরএআর/টিআর/