কারাগার বদল হলেও বদল হয়নি বন্দিদের ভাগ্য

কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারপুরান ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানন্তর করার পরও বন্দিদের সংকট, সমস্যা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়নি শতভাগ। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে সংকট আরও বেড়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।
পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারটি ছিল ঘিঞ্জি এলাকায়। শত বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অল্প জায়গা ও নিরাপত্তাজনিত কারণসহ নানা কারণে এবং বন্দিদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কারাগারটি স্থানান্তর করে কেরানীগঞ্জে নেওয়া হয়। তবে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেই সমস্যা ও সংকট কারাগারে এখনও রয়েছে। বাড়তি আরও নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
কারা অধিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ২,৬৮০ জন বন্দি ধারণের ক্ষমতা ছিল। তবে সেখানে থাকত আট হাজার বন্দি। নতুন কারাগারে ধারণক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ৪,৫৯০ জন। এখানেও থাকেন ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ, আট হাজার বন্দি। নতুন কারাগারের তিনটি ভবন এখনও নির্মাণাধীন। তাই বন্দিদের থাকার জায়গা নিয়ে বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি মাদক মামলার আসামি ছাইদুল ইসলাম। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তিনি কারাগারে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কারাগারে সবকিছু পাওয়া যায়। তবে তার জন্য টাকা লাগে। টাকা থাকলে বাইরের জগতের চেয়েও ভালো থাকা যায়।’ কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের যে খাবার সরবরাহ করে, তার মানও ভালো নয় বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, নতুন কারাগারে নিয়মিত পানি পাওয়া যায় না সেলে। আলাদা যে রান্নাঘরটি রয়েছে সেটি খুব ছোট এবং সেখানে এখনও গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়নি। লাকড়ি দিয়ে রান্না করায় প্রতি বেলাতেই খাবার পরিবেশনে দেরি হয়।
কারা কর্মকর্তারা জানান, পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের কর্মমুখী করার জন্য তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ ছিল। নতুন কারাগারে এই সুযোগ কম। এখানে বন্দিদের চুল কাটার রুমটিও ছোট। সেল থেকে বের হয়ে বন্দিদের হাঁটার জন্যও নেই পর্যাপ্ত জায়গা। জায়গার অভাবে কারাগারের কিশোর ওয়ার্ডটি হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের তুলনায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছোট হওয়ায় এখনও ড্রেনেজের কাজ চলছে। কারাগারের চারপাশের নিরাপত্তা এখনও দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিবাদও রয়েছে। কারারক্ষীদের আবাসন সমস্যা সমাধান হয়নি। অনেকের পরিবার এখনও ঢাকাতেই থাকছেন। তাদের সন্তানরাও ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করে। কারাগারে একটি স্কুল তৈরি করার কথা থাকলেও এখনও তা নির্মাণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের ড্রেনটি সংস্কার করা হয়েছে। তবে বাইরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করা হচ্ছে।’
ঠিকমতো খাবার সরবরাহ করতে না পারার বিষয়ে সিনিয়র জেল সুপার বলেন, ‘সময়মতোই বন্দিদের খাবার দেওয়া হয়। তবে এখনও লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হয়। এলপি গ্যাস দিয়ে রান্নার জন্য আমরা নতুন একটি প্রজেক্টের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।’
বন্দিদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে থাকার জায়গা বরাদ্দ করা হয়— এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘এই অভিযোগ কেউ করে থাকলে সেটা মনগড়া। কারণ এখন আমাদের এই কারাগারে সাড়ে চার হাজার বন্দির ধারণক্ষমতা থাকলেও নয় হাজার বন্দি সহজেই থাকতে পারে।’ কারারক্ষীদের আরও একটি ব্যারাক তৈরি করার কথাও জানান তিনি।

আরও পড়ুন-

কোথায় গেল লক্কড়-ঝক্কড় বাস?

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৭ বাস চালকের কারাদণ্ড, ৭৫ মামলা

/এআরআর/টিআর/