যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— হেফাজতে ইসলামের উপদেষ্টা ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন নায়েবে আমীর ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর শাহ আহমেদুল্লাহ আশরাফ, ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হামিদুর রহমান আজাদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, খেলাফত মজলিশের আমীর মওলানা মো. ইছাহাক ও নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব।
এছাড়া, এই মামলার তিন জন আসামি জামিনে রয়েছেন। তারা হলেন, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও মোশাররফ নামের আরও একজন। আর এই মামলায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যপরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল বলেন, ‘আদালত মামলার ২৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। শুধু তাই নয়, পলাতক এই ২৫ আসামিকে গ্রেফতার করা গেল কিনা, এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ৬ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দিয়েছেন।’
এই মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে গণজাগরণ মঞ্চকে উৎখাত করার জন্য মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এসময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ করে ও পুলিশকে মারধর করে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ওই দিনই নিজ থানাতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত গোলদার গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলায় ২৯ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ প্রসঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের সময় আমি ঢাকায় ছিলাম না। তখন ব্লগার ইস্যুতে আমাদের দলও তৎপর ছিল না। মূলত আমরা সক্রিয় হয়েছি হেফাজতের সময়। এখন মামলা দিলে কী আর করার থাকে? এখন পর্যন্ত ২৭টি মামলায় আমার নাম ঢুকানো হয়েছে।’
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈমান রক্ষার আন্দোলন করতে গেলে, ইসলাম প্রচার ও প্রসার করতে গেলে এ ধরনের মামলা-মোকদ্দমা হতেই পারে। এতে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত নই। ঈমানি আন্দোলন চলছে, চলবে। তবে আমরা নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্য থেকেই আন্দোলন করে থাকি। কোনও নাশকতা ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমরা সব সময় শান্তি, শৃংখলা ও নিয়মতান্ত্রিকতা মেনে চলি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈমানি আন্দোলন আমাদের আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব যেকোনও অবস্থায়, যেকোনও মূল্যে পালন করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ গ্রেফতারি পরোয়ানার মোকাবিলা করব। প্রয়োজন হলে রাজপথেও মোকাবিলা করা হবে।’
আরও পড়ুন-
নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ৮ মার্চ
/এসআইটি/সিএ/টিআর/টিএন/