ব্যাংকের ঋণ দিতে গ্রাহকের চেক রাখা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

High-Court-1_2ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সিকিউরিটি হিসেবে জমা রাখা গ্রাহকের ব্ল্যাংক চেক পরবর্তী সময়ে কোনও কারণে ডিজঅনার হতে পারে। এক্ষেত্রে নেগোশিয়েবল অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করা কেন অবৈধ ঘোষণা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর, চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট রাফসান আলভী ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলে রাব্বী খান।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, চট্টগ্রামে আইএফআইসি ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড শাখা থেকে নাহার ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেট লিমিটেড জমি বন্ধক দিয়ে ঋণ গ্রহণ করে। ব্যাংক কোম্পানি তাদের কাছ থেকে সিকিউরিটি হিসেবে চেক নেয়। কিন্তু লোকসানের কারণে ব্যবসায়ী যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত চেক ডিজঅনার দেখিয়ে মামলা করে।

এ কারণে সিকিউরিটি হিসেবে পোস্টডেটেড বা আনডেটেড ব্ল্যাংক চেক রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন নাহার ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মনজুরুল আলম। 

প্রসঙ্গত, ঋণ দেওয়ার সময় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক রেখে পরবর্তীতে চেক ডিজঅনার হলে মামলা করে থাকে। এতে হয়রানির শিকার হন গ্রাহকরা। 

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমাতুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেগোশিয়েবল অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনারের শাস্তির বিধান আছে। আইন অনুযায়ী এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকে বর্ণিত অংকের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।’

/এমটি/ইউআই/জেএইচ/