দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৯ জন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৬০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। মালিকপক্ষের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার জন্য ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত সম্মতি নেওয়ারও চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। যারা মালিকপক্ষের প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন না তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘২৬ মাসের বেতন বকেয়া বাকি পড়ে আছে সাংবাদিক-কর্মচারীদের।’
জানতে চাইলে দৈনিক ইনকিলাবের জিএম (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান তালুকদার গণছাঁটাই ও স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গণছাঁটাই হলে পত্রিকা কিভাবে বের হবে। তবে খরচ কমানোর জন্য কিছু লোক কমানো হচ্ছে।’ তবে বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক ও কর্মচারীদের অনেকের ১৬ মাস থেকে ২০ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। কর্তৃপক্ষ সেগুলো পরিশোধ করার চেষ্টা করছেন।’
দৈনিক ইনকিলাবে গণছাঁটাইয়ে বিএফইউজে ও ডিইউজের ক্ষোভ-উদ্বেগ
দৈনিক ইনকিলাবে গণচাকরিচ্যুতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে’র সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান যৌথবিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘গত কয়েক দিনে দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিকদের বিনা নোটিশে ছাঁটাই ও আরও বহু সাংবাদিককে ওয়েজবোর্ডের পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক বেতনে চাকরিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।’
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘দৈনিক ইনকিলাবের মতো একটি পত্রিকায় নির্বিচারে ও গণহারে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। দেশের প্রচলিত আইনে গণমাধ্যমকর্মীদের ছাঁটাই না করে এমনকি ন্যূনতম মানবিক বিবেচনাবোধের তোয়াক্কা না করে গণছাঁটাই করে চলেছে। কোনও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। গণছাঁটাইয়ের আদেশ প্রত্যাহার, সাংবাদিকদের ন্যায্যপাওনা পরিশোধ ও কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান তারা।
/জেইউ/এমএনএইচ/