ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত শুনানি: অ্যাটর্নি জেনারেলের থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মঙ্গলবার (৯ মে) নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সব বিচারপতিকে যুক্ত করা না হলে নিজেকে এই মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারি।’
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানির শুরুর দিন থেকেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা গেছে অ্যাটর্নি জেনারেলকে।
এদিকে বিচারিক আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলারক্ষা বিধির গেজেট প্রকাশ নিয়ে সোমবার (৮ মে) মাহবুবে আলমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন প্রধান বিচারপতি। সব মিলিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মামলা লড়বেন নাকি তার সহযোগীদের দিয়ে মামলা পরিচালনা করাবেন তা নিয়ে বারবারই প্রশ্ন তুলেছেন এস কে সিনহা।
প্রসঙ্গত, তিন বছর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হয়। এটি চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন হয়। গত বছরের ৫ মে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধেই আপিলের শুনানি চলছে।

শুনানির শুরুতে সোমবার সময় আবেদন করলেও আদালত রাজি না হলে শুনানি শুরু করান। একপর্যায়ে পেপার বুক অর্ধেক পড়া শেষ হওয়ার পর দিনের কার্যক্রম মুলতবি করে প্রতিদিন শুনানি চলবে বলে জানিয়ে দেন আপিল বিভাগ।

আগের দিনের মতো মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতেও প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ বেঞ্চে ছিলেন পাঁচ বিচারপতি। সকালেই অ্যাটর্নি জেনারেল সময় আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি তাকে শুনানি চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল সাত বিচারপতির উপস্থিতি না থাকার বিষয়টি সামনে আনেন। প্রধান বিচারপতিকে তিনি বলেন, ‘শুনানি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে হওয়ার কথা। আপনি তো আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত আছেন। এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না।’

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এ মামলার সঙ্গে বিচারকদের শৃঙ্খলার বিষয়টি সম্পৃক্ত। এক্ষেত্রে কোনও শুন্যতা থাকতে পারে না।’

শুনানির পর রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে শুনানি শুরুর সময় অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথমে মৌখিক ও পরে দুটি দরখাস্ত দাখিল করেন। একটিতে তারা বলার চেষ্টা করেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ একটি জায়গায় বলেছেন— সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি বিরাট অংশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। এটি সমস্যার।’

রিটকারী আইনজীবী দ্বিতীয় দরখাস্ত প্রসঙ্গে বলেন, ‘শুনানিতে দুই বিচারপতির অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে এনেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি চেয়েছিলেন, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি করা হোক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছেন— পেপার বুক পড়ার সময় এর দরকার নেই।’

সব বিচারপতি না থাকলে এ মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে ভাববেন বলে আদালতে উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে কী করবেন জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা তখনই দেখা যাবে।’

হাইকোর্টের রায়ে সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। আদালত বলেছেন, বিতর্কিত কিছু থাকলে সেটা তারা দেখবেন।’

/এমটি/ইউআই/জেএইচ/