এক প্রশ্নের জবাবে ওসি ফরমান আলী বলেন, ‘এই অভিযোগটা মিথ্যা। আমরা যা করেছি, তা আইনের মধ্য থেকেই করেছি। আইনের বাইরে গিয়ে আমাদের কোনও কিছু করার সুযোগ নেই।’ তাহলে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ এলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফরমান আলী বলেন, ‘তারা তো অভিযোগই করেনি।’ কিছুক্ষণ থেমে আবার বলেন, ‘আমরা তো মামলা নিয়েছি, মামলা নেবো না কেন?’ ভিকটিমদের সঙ্গে অপেশাদার আচারণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ ঠিক না।’
ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষেই সব জানা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ১২ মে রাতে ছুটি থেকে এসে থানায় যোগ দিয়েছি। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার বিভাগ তদন্ত করছে। তাদের পাশাপাশি আমরাও বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’
তবে ঘটনার পর ভিকটিম ও সাফাতের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ওসি খারাপ আচরণ করেছিলেন বলে ভুক্তভোগীরা একাধিকবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন। অভিযোগ আছে, রাজধানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগকারীদের চরিত্র হননের চেষ্টা করেছেন বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী। ধর্ষণের ঘটনায় গত ৫ মে শুক্রবার থানায় মামলা করতে গেলে প্রথম দফায় থানা থেকে ওই দুই শিক্ষার্থীকে বের করে দেন ওসি। তবে ৬ মে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করেন ওসি। এরপর থেকে দৃশ্য পাল্টে যেতে থাকে।
উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ পূর্ব পরিচিত সাফাত আহমেদ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিন তারা ওই শিক্ষার্থীদের বনানীর কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বর ‘দ্য রেইনট্রি’ নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলার সময় দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ও ঘটনার ভিডিও ধারণ করে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। পরদিন ভয় দেখিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে ভয়ের বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন ঘটনার শিকার এক তরুণী । ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও আজ সোমবার সাফাতের গাড়িচালক বেলাল এবং দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ ওরফে রহমত আলীকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। বর্তমানে সাফাত ও সাকিফ যথাক্রমে ৬ ও ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। সাফাতের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ।
/এমএনএইচ/টিএন/আপ-এআর/