সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিন হত্যা মামলার বিচার কাজ চলার পক্ষে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে আপিলের অনুমতির আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। ফলে নিম্ন আদালতে পলিন হত্যা মামলার বিচার কাজ হতে আইনগত কোনও বাধা নেই।
পলিনের মা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যতদিন ন্যায়বিচার না পাবো, মনে হবে পলিন আমাদের আশেপাশেই আছে। যখন হতাশ হয়ে পড়ি তখনই মনে হয়, পলিন বলছে আর একটু চেষ্টা করো, সত্য একসময় প্রমাণিত হবেই। আজ পর্যন্ত কোনও মানুষ হত্যা করে পার পেয়ে যেতে পারেনি। আমার মনে হচ্ছে আল্লাহ নিজে এই বিষয়টা হাতে নিয়েছেন, আমরা শুধু উপলক্ষ মাত্র। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এখানে এসেছি, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয় আমাদের মত সামান্য মানুষদের।’
পলিনের মা আরও বলেন, ‘এটা তো সামান্য একটা ধাপ, সামনে আরও অনেক পথ যেতে হবে। আর কাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই যুদ্ধ তা তো জানোই। আজ এতটুকু শান্তি পাচ্ছি যে, এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। সামনের দিকে অনেক ভয় আছে, সামনে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। এটা নিয়েই শঙ্কিত, শেষ পর্যন্ত কতটুকু কি করতে পারবো। তবে আশা করি ইনশাল্লাহ, আল্লাহ আমাদের সহায় আছেন। আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ আমরা ন্যায়বিচার পাবো।’
রায়ের পর পলিনের বাবা আবুল বাশার পটোয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলা চলা বিষয়ে আপিলের আদেশে বুঝলাম আমি একদিন ন্যায়বিচার পাবোই, পাবো। অপরাধীদের বিচার হবেই। আজ আমি বিচার পাবো নিশ্চিত হয়েছি।’
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী পলিনের লাশ উদ্ধার করা হয় ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে। পলিনের বাবা বাশার পাটোয়ারী ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে সেই বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। সে সময় আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় ২০১৩ সালের ২২ মে। পলিনের বাবা বাশার পাটোয়ারীও হোস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজনের নাম উল্লেখ অভিযোগ দাখিল করেন। এরা হলেন, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের তৎকালীন সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেন, নন কমিশন্ড অফিসার মো. নওশেরুজ্জামান, হোস্টেলের আয়া হেনা বেগম, মেজর মনির আহমেদ চৌধুরী ও মেজর নাজমুল হক।
আরও পড়ুন: ক্যাডেট পলিন হত্যা মামলা বিচারিক আদালতে চলবে
/এমটি/ইউআই/এমও/