সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে রিটকারীকে হুমকি: ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

সুপ্রিম কোর্টবাড়ির মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স দানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) দেওয়া নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের আবেদনকারীর হুমকিদাতাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে সিটি করপোরশের আইনজীবীকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে রিটকারীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ করলে, তা আমলে নিয়ে আদালত সিটি করপোরেশনের আইনজীবীকে মৌখিকভাবে এই নির্দেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার চালিয়ে যাওয়ারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রিট প্রত্যাহার করে নিতে আদালতে গেলে রবিবার (০২ জুলাই)  বিষয়টি শুনে বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি এম ফারুকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।   রিটকারীর আইনজীবী মুক্তাদির রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

আইনজীবী মুক্তাদির রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মক্কেল আজ তার দায়েরকৃত রিট প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তখন তার প্রত্যাহারের কারণ জানতে চান। জবাবে রিটকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়, রিট প্রত্যাহারের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে হুমকি আসায় তিনি প্রত্যাহার করতে চান।’

এ সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে অবহিত করে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত আরও ৪০ থেকে ৫০টি আবেদন বিভিন্ন কোর্টে রয়েছে। একটি আবেদন প্রত্যাহার করলে কী আর হবে? এ সময় আদালত হুমকিদাতাকে রিটকারীর নিকট ক্ষমা চাইতে সিটি করপোরেশনের আইনজীবীকে মৌখিক নির্দেশ দেন এবং এ মামলা চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দেন।’

বাড়ির মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা কেন স্থগিত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জানুয়ারি রুল জারি করেন বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি এম ফারুক এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে সিটি করপোরেশন।কিন্তু আপিল বিভাগ ওই আবেদনের শুনানি করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দেন।

আইনজীবী মুকতাদির রহমান আরও জানান, মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্রাক্সসেশন) রুলস ১৯৮৬ আইনটি ২০০৯ সালে বাতিল করে নতুন আইন করে। এরপর এ সংক্রান্ত নতুন যে আইনটি অর্থাৎ স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ করা হয়েছে, সেখানে কোথাও ট্যাক্স আদায়ে কোনও বিধান রাখা হয়নি। কিন্তু ডিসিসি থেকে নাগরিকদের ১৯৮৬ সালের পুরনো আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। এ কারণে হাইকোর্ট ওই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন।

/এমটি/ইউআই/ এমএনএইচ/