‘সাহায্যের জন্য চিৎকার করে কেঁদেছিলেন ধর্ষণের শিকার তরুণী’

 

ধর্ষণ মামলার আসামি বাহাউদ্দিন ইভান বনানীতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর গভীর রাতে বাসা থেকে বের হয়ে ওই তরুণী সাহায্যের জন্য চিৎকার করে কেঁদেছিলেন বলে জানিয়েছেন  ন্যাম-ভিলেজ নামক ভবনের ম্যানেজার শওকত হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে একজন তরুণীর চিৎকার শুনে রুম থেকে বের হই। তখন দেখি নিচতলায় দাঁড়িয়ে একজন তরুণী কাউকে ফোনে কিছু বলার চেষ্টা করছিলেন আর ইভানকে গালি দিচ্ছিলেন। তার কথাবার্তায় মনে হয়েছে, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন নম্বরে ফোন দিলেও কাউকে পাচ্ছিলেন না। একসময় তাকে খুবই অসহায় মনে হয়েছে। একজনকে ভাই সম্বোধন করে সবকিছু বলার চেষ্টাও করছিলেন। তবে শেষদিকে অন্যপ্রান্ত থেকে কেউ ফোন রিসিভ কেটে দেওয়ায় তরুণীটি অসহায় পড়েন। এ সময় আমি তাকে সরাসরি থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেই।’

বৃহস্পতিবার সকালে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ওই ভবনের বাসায় ঢুকতে চাইলে ম্যানেজার শওকত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের বাসায় তিনজন গৃহকর্মী ছাড়া আর কেউ নেই।’ বাসার সব লোকজন সকালেই বের হয়ে চলে গেছেন। কোথায় গেছেন বলে যাননি। সাংবাদিকদের প্রবেশেও নিষেধ আছে। তাই তার কিছুই করার নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান জোনের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসামি আমাদের কাছে নেই। তবে মামলা তদন্তের কাজ এগিয়ে চলছে। বলার মতো সময় হলে সবই জানাতে পারব।’ 

ভবনের অন্য একজন গাড়ি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যখন মেয়েটি বের হয়, তখন তার সঙ্গে ইভান ছিল। বিভিন্ন হুমকি দিয়ে ইভান মেয়েটিকে বের করে দেয়। দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে জোর করে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।’ এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর বনানী থানা পুলিশ ও  বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে হাজির হতে থাকেন বলে জানান ওই গাড়ি চালক।

ভবনের ম্যানেজার শওকত হোসেন বলেন, ‘ভোর রাতে তল্লাশি চালালেও ইভানকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। অন্য কোনও সংস্থার সদস্যরা তাকে হেফাজতে নিয়ে গেছে কিনা, তাও দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে ইভানের স্ত্রী তার বাবার বাসভবন লালবাগ এলাকায় বাস করছিলেন। তাদের দুই সন্তানও মায়ের সঙ্গেই ছিল। ওই বাসায় ইভান, তার বাবা বোরহান উদ্দিন ও পরিবাবের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গেই বসবাস করতেন। বাসায় বাবা-মা ছাড়াও ইভানের দুই ছোট ভাই ওই বাসাতেই থাকেন।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ন্যাম-ভিলেজ ভবনটির মালিক ১০ জন। তাদের একজনের কাছ থেকেই মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় সপরিবারে থাকেন ইভান। ওই ফ্ল্যাটের তিনটি বেডরুমসহ বেশ কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি কক্ষে ইভান থাকতেন। বাকি কক্ষগুলোতে তার বাবা-মা ও ভাইয়েরা থাকতেন।

বুধবার (৫ জুন) দিবাগত মধ্যরাতের পর পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল বনানী থানাধীন ২ নম্বর রোডের ৫/এ নম্বর ‘ন্যাম-ভিলেজ’ নামে বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ‘ন্যাম-ভিলেজ’-এ ভাড়া থাকলেও ওই ভবনের পাশেই ইভানের বাবা বোরহান উদ্দিনের ১০ কাঠা জমির একটি প্লট রয়েছে। যেখানে টিনশেডের বেশকিছু কক্ষ ভাড়া দেওয়া আছে। এছাড়া ৮ নম্বর রোডের মাথায় দুই নম্বর বাড়িতে বোরহান উদ্দিনের জমি ব্যবসায় ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায় অফিস আছে। এসব জায়গায়ও পুলিশ ও গোয়েন্দা বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালিয়েছে। কিছু আলামত সংগ্রহ করলেও পুলিশ ইভানকে ধরতে পারেনি। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। এছাড়া মামলা হওয়ার আগে ও পরে কয়েক দফায় ধর্ষণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ জুলাই) রাতে বনানীর ২ নম্বর সড়কে ন্যাম ভিলেজ-এর বাসায় জন্মদিনের কথা বলে এক তরুণীকে ডেকে  আনে ইভান। এরপর ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর গভীর রাতে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। ইভানের বিরুদ্ধে  এসব  অভিযোগ এনে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন ওই তরুণী। ইভান শিল্পপতি বোরহান উদ্দিনের ছেলে। 

 আরও পড়ুন: বনানীতে ধর্ষণ মামলার আসামি ইভানকে খুঁজছে পুলিশ

/জেইউ/এমএনএইচ/