দুদক হটলাইন ১০৬-এর সিস্টেম এনালাইসিস্ট রাজিব হাসান জানান, ‘উদ্বোধনের পর থেকে প্রচুর মানুষ ফোন দিয়েছেন। সবাই যে অভিযোগ জানাতে ফোন করেছিলেন, তা না। অনেকে জানার জন্য ও দুদককে শুভেচ্ছা জানাতেও ফোন করেছিলেন। অভিযোগের ফোনও ছিল অনেক।’ তিনি বলেন, ‘২৭ জুলাই বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত ফোন কল এসেছে ২ হাজার ৪৪৪টি। এসব ফোনের মধ্যে ৫৫টি অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও সারাদিনে হটলাইনে সাড়ে ১২ হাজারের অধিক ফোন কল এসেছে বলে জানান রাজিব হাসান।
এই সার্ভিস চালুর ফলে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে জানান দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ‘জনগণ সহজে এই সেবার মাধ্যমে দুদকে অভিযোগ করতে পারছে। প্রথম দিন জনগণের রেসপন্স ছিল অনেক ভালো। এছাড়া আজ (শুক্রবার) বন্ধের দিনের অনেক ফোন এসেছে। ’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে হটলাইন ‘১০৬’ উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এসময় তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে আমরা সবাই নিমজ্জিত। আমরা যদি সবাই অনিয়মের মধ্যে না থাকতাম, তাহলে দুর্নীতি চলতে পারতো না। দুর্নীতি করেন কিছু ব্যক্তি, যাদের হাতে ক্ষমতা আছে। যারা সেবা দান করেন, কোনও কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। যাদের এ ক্ষমতা আছে, তারা ক্ষমতা প্রয়োগের সময় দুর্নীতির পথ অবলম্বন করেন।’
দুদকের হটলাইন ‘১০৬’ সার্ভিসের মাধ্যমে যে সব সুবিধা পাওয়া যাবে, তা হলো—জনগণের সঙ্গে দুদকের প্রত্যক্ষ সংযোগ চালু, দ্রুত দুর্নীতির তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া, দুর্নীতি ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে এমন অভিযোগ পেলে তা প্রতিকার করা, দুর্নীতি বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি ও জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করা।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দুদকের হটলাইন ‘১০৬’ নম্বরে ফ্রি কল করা যাবে। হটলাইনে অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা বা পরিচয় কোনও অবস্থাতেই প্রকাশ করা হবে না। কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের তিন তলায় হটলাইন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। হটলাইন ‘১০৬’ পরিচালনার জন্য ৫০ জন কর্মকর্তাকে প্রযুক্তি এবং আচরণগত বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে কমিশন।
/আরজে/এমএনএইচ/