আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আসামিপক্ষে ছিলেন হেলাল উদ্দিন মোল্লা।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু জানান, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সোমবার সে আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে দিয়েছেন চেম্বার আদালত।’
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ছিনতাই ও অপহরণের অভিযোগে নাজিরসহ চার জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১১ সালের ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুজ্জামান জিলানী এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চার আসামিকেই বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় আসামি নাজিরের ভূমিকাকে গুরুতর উল্লেখ করা হয় রায়ের পর্যবেক্ষণে। এ জন্য তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় নাজির পলাতক ছিলেন।
রায়ের পটুয়াখালীর কলাপাড়ার অনন্তপাড়া গ্রামের মো. বাদল জমাদ্দারের ছেলে তাজিম জমাদ্দারকে একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে রাজি করান আসামি নাজির। এ কাজের বিনিময়ে তাজিমকে একটি অটোরিকশা অথবা নগদে পাঁচলাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সংসারে অনটন ও অসচ্ছলতার কথা চিন্তা করে সহজ-সরল তাজিম রাজি হয়ে যান। কথামতো নাজির হয়ে তাজিম নারায়ণগঞ্জের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ২০১১ সালের১০ অক্টোবর। আদালতে তাকে জেলে পাঠান। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করে ২৪ দিন পর তাকে জামিনে মুক্ত করেন নাজির। কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়া নিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। এরপরই তাজিম তার নাজির হওয়ার গল্প প্রকাশ করে দেয়।
এই প্রতারণার গল্প পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে যায়। পরে গত ৮ মে তারিখ অনুযায়ী হাজিরা দিতে আদালতে যান নাজির। ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন পত্রিকার প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এনে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। পরে উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করলে গত ২৩ জুলাই বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের বেঞ্চ জামিন দেন। হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।
/এমটি/ এমএনএইচ/