প্রবীণ ফটো সাংবাদিক ফরহাদ হোসেনের ছেলে আসিক। মা গৃহিনী। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান আসিক। তিনি এ বছরের ইদুল ফিতরের পরদিন ২৭ জুন মধ্যরাতে রাজধানীর রামপুরায় একটি অনুষ্ঠান শেষে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় ফিরছিলেন। রামপুরা থেকে বনশ্রী রাস্তা খারাপ থাকায় তিনি শান্তিনগর হয়ে বাসায় ফেরার পথে শান্তিনগর বাজারের বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে তার গতিরোধ করে পল্টন থানার টহল পুলিশ। এরপর পুলিশ তাকে তল্লাশি করে। এ সময় আসিকের পকেট থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পায় বলে পুলিশ দাবি করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও দুই জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—আল-আমিন ও আসিফ। ইয়াবা রাখার অভিযোগ এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই আসিক ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন। পুলিশ তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। আসিক মোহাম্মদের মা আছিয়া বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে ওই সময় বলেন, ‘যেদিন আসিককে পুলিশ আটক করে, ওইদিন রাতে বন্ধুদের আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল আসিক। অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিনগর বাজার এলাকায় পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর ছেড়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় আসিককে পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে পুলিশ মামলা দিয়েছে।’
পুলিশের এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাত ৪টা ২০ মিনিটে আসিকসহ তিনজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তখন তল্লাশি চালিয়ে আসিকের পকেট থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাকিদের মদ্যে একজনের পকেটে ১০টি ও অন্যজনের কাছ থেকে ৫টি ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৮ জুন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে পল্টন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশরাফ আলী বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে। তিনি আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত রিমান্ড না মঞ্জুর করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবি পুলিশ প্রায় দুই মাস তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা প্রমাণ পেয়েছি। তারা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতেন।’
ডেইলি অবজারভারের প্রধান প্রতিবেদক পুলক ঘটক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্দোষ। যেসব সাক্ষীর কথা পুলিশ বলছে, তারা কেউ ইয়াবার কথা বলেনি।’