বাংলাদেশ-রুশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী: ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ও রাশিয়ার প্রধান বিচারপতি ভায়াচেসলাভ এম লেভদেভবাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফর করে বাংলাদেশ ও রুশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।’ সোমবার (০৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ‘১৯৭২ সালের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মস্কো সফর করেন। ওই সফরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশিয়ার অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য বঙ্গবন্ধু তাদের কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গবন্ধু দুই দেশের সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে যে ভিত্তি দিয়েছিলেন, ২০০৯ ও ২০১৩ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সে বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমাদের বিচার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এই সহযোগিতা চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্যে হচ্ছে, দুই দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় করা।’

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচার ও মামলা ব্যবস্থাপনায় ই-সার্ভিস প্রতিষ্ঠায় রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রাপ্তিও এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে কম সময়ে, কম খরচে ও কম লোকবল ব্যবহার করে মামলার জট নিরসন করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতায় আমরা দেশের কল্যাণের জন্য বৃহত্তর পরিবর্তন ও কৌশল নির্ধারণ করতে পারি, যা আমাদের জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে উন্নতি বয়ে আনবে।’

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার প্রমুখ।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুপুর সোয়া ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওহহাব মিঞার পাশে বসে বিচারিক কাজ‌ পর্যবেক্ষণ করেন রাশিয়ার প্রধান বিচারপতি ভায়াচেসলাভ এম লেভদেভ।  
উল্লেখ্য, তিন দিনের সফরে রবিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় আসেন ভায়াচেসলাভ এম লেভদেভ। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সারাদিন রাশিয়ান দূতাবাসে অবস্থানের পর বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি নিজ দেশের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে পারেন বলে  একটি সূত্র জানিয়েছে।