পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

দুদকতথ্য গোপন, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মু. শহীদুল আলমের বিরুদ্ধে। এ কারণে পৃথক দুই থানায় দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগান ও রমনা থানায় মামলাগুলো দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূঁঞা। গত ১৭ অক্টোবর তদন্ত শেষে মামলা দুটির অনুমোদন দেয় কমিশন।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ‘অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। এর নম্বর ১৫।’
এই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়— তিনটি ব্যাংকে নামে-বেনামে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৪৫০ টাকা জমা করে নিজে তুলেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মু. শহীদুল আলম। এই টাকা পিডিবি’তে সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত বিভিন্ন পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন তিনি। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে নিজ নামে সঞ্চয়ী হিসাব আছে তার। সেখানে ২০০২ সালের ৯ জুলাই থেকে ২০০৫ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা জমা করে পরবর্তীতে নিজেই তুলেছেন তিনি।

এদিকে যমুনা ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে ২০০৪ সালের ২৩ মার্চ থেকে ২০০৪ সালের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা করেন প্রকৌশলী শহীদুল। পরবর্তীতে সেখান থেকে নিজ নামে ও ভুয়া ব্যক্তি সাজিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৪টি এফডিআর বানানোসহ বিভিন্নভাবে জটিল লেয়ারিং প্রক্রিয়ায় তা উঠিয়েছেন তিনি।

এছাড়া সাউথ ইস্ট ব্যাংকে ২০০৪ সালে ১ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচয় গোপন করে বেসরকারি প্রকৌশলী পরিচয়ে সঞ্চয়ী হিসাবে ১ কোটি ৭৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৫০ টাকা জমা করেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী। ওই হিসাব থেকে ১ কোটি টাকা ৭০ লাখ টাকা নগদ তোলেন তিনি। একই ব্যাংকে পরবর্তীতে নিজ নামে ও ভুয়া ব্যক্তি সাজিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১২টি এফডিআর বানানোসহ বিভিন্নভাবে জটিল লেয়ারিং প্রক্রিয়ায় তা তুলেছেন তিনি।

এদিকে পিডিবি’র সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা মামলার নম্বর ৫১। এখানকার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন মু. শহীদুল আলম। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় মামলা হয়েছে।