বিনীতাসহ উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস, আরেক বোন ববিতা রানি দাস, তিন ভাই মনোহর রঞ্জন দাস, পলাশ চন্দ্র দাস ও শুভদেব ভৌমিক বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আসেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কার্যালয়ে (ক্র্যাব)। তাদের কান্নাকাটি আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এখানকার পরিবেশ।
উৎপলের জন্য তার পরিবারের দিন কাটছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। সাংবাদিকদের চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘সন্তানদের অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছি। এখন আমি একটি কিন্ডারগার্টেনে কাজ করি। আমি এখন অসহায়।’
লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পূর্বপশ্চিম ডট নিউজের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশে একজন সংবাদকর্মী দিনেদুপুরে নিখোঁজ হয়ে যেতে পারে না। উৎপলের নিখোঁজ হওয়াটা আমাদের কাছে এখন পারিবারিক বিষয়ের মতো। আমরা ধৈর্য ধরেছি। আমি এমন কোনও ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী সম্পাদক নই যে তাকে ফিরিয়ে আনবো। তবে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করবো। উৎপল ফিরে আসুক মায়ের কোলে, ফিরে আসুক আমাদের মাঝে।’
পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজের প্রধান সম্পাদক আরও বলেন, ‘উৎপল একটু খেয়ালি ছিল। না বলে অনুপস্থিত থাকতো বলে একবার তাকে বাদও দিয়েছিলাম। কিন্তু তার ভালোবাসা ও শিশুসুলভ আচরণের কাছে আমরা ফিরে আসি। তাই তাকে আবারও চাকরি দেওয়া হয়। উৎপল কোথায় কেমন আছে, কী ঘটছে তার জীবনে, কেন তার খোঁজ মিলছে না বুঝতে পারছি না।’
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়— গত ১০ অক্টোবর দুপুর ১টা পর্যন্ত অফিস করেন উৎপল দাস। এরপর আর তিনি কর্মস্থলে আসেননি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন নরসিংদীর রায়পুরার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ছুটে এসে চিত্তরঞ্জন দাস আরেকটি জিডি করেন।
নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। তিনি পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজ কর্তৃপক্ষকে আশ্বাস দিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন। র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আন্তরিকভাবে সাড়া দেন বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এদিকে ২৩ অক্টোবর রাতে ও ২৪ অক্টোবর সকালে দু’দফায় চিত্তরঞ্জন দাসের মোবাইল ফোনে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। দু’বারই কল এসেছে উৎপলের নম্বর থেকেই। কিন্তু তার সঙ্গে বাবা কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেই অন্য প্রান্ত থেকে লাইন কেটে দেওয়া হয়। তারপর থেকে আবারও ওই মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি নিজেদের এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি সোহরাব হোসেন কিরণ ও মতিঝিল থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন-