দগ্ধ কিশোরীর মৃত্যু: স্বজনদের দাবি হত্যা, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

আজিজা
নরসিংদীর শিবপুরের খৈনকুট গ্রামে আগুনে পুড়ে যাওয়া এক কিশোরী শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অভিযোগে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ বলছে, চুরির অপবাদ সইতে না পেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।  

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, মেয়েটির নাম আজিজা (১৫)। তার বাবার নাম আবদুস সাত্তার। আজিজার লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

আজিজার ভাই সুজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুক্রবার রাতে ৮টা সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির আঙিনা থেকে আজিজাকে ধরে নিয়ে যায় কয়েকজন। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে টিলার মতো একটি জায়গায় নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে এলাকার লোকজন ঘটনা টের পেয়ে দৌড়ে গিয়ে যতক্ষণে আগুন নেভায় ততক্ষণে তার অনেকখানি পুড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে রাত দেড়টার দিকে আজিজাকে ঢামেকে আনা হয়।

সুজন আরও জানান, আট-দশ দিন আগে তাদের চাচির একটি মোবাইল সেট চুরি হয়। চাচির মা ও অন্য স্বজনরা এর জন্য আজিজাকে সন্দেহ করে। তারা হুমকি দেয়, এক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল ফেরত না দিলে আগুনে আজিজাকে পুড়িয়ে দেবে। যারা আজিজাকে পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের চিনতে না পারলেও এই ঘটনার জন্য চাচি ও তার স্বজনদেরই সন্দেহ করছেন তারা।

এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের নরসিংদী প্রতিনিধিকে শিবপুর থানার ওসি মো. সৈয়দুজ্জামান জানান, কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনও প্রমাণ এখনও তাদের হাতে আসেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অপবাদ সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি নিজে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এখন তাদের বাড়িতে কেউ নেই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।