আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ সময় তিনি আদালতকে বলেন, ‘লেকহেড গ্রামার স্কুলের বর্তমান কমিটি ও শিক্ষকরা জঙ্গিবাদে জড়িত কিনা সে বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। কিন্তু আমরা তা পড়ে দেখার সময় পাইনি। এজন্য সময় প্রয়োজন।’
এরপর লেকহেড গ্রামার স্কুলের পক্ষে ব্যারিস্টার আখতার ইমাম স্কুলটির শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের বিস্তারিত ঠিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে। এছাড়া ওই স্কুলে কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় তাও দেওয়া হয়েছে।
এ সময় আদালতে লেকহেড স্কুলের পক্ষে আরও ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ, আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার, আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।
গত ৬ নভেম্বর গুলশান ও ধানমন্ডির দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখানকার যুগ্ম-সচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়— সরকারের অনুমোদন না নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত।
পরে গত ৯ নভেম্বর ওই স্কুল বন্ধের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিন ও ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের পক্ষে দুটি রিট দায়ের করা হয়। রিট দুটির আংশিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন আদালত।
শুনানি শেষে বন্ধ স্কুলটির মালিককে তার প্রতিষ্ঠান খোলা ও পরিচালনা করতে দেওয়ার জন্য কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।
শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ওই রুলগুলোর জবাব দিতে বলা হয়।
তবে রুলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে স্কুল মালিক ও অভিভাকদের করা দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলগুলো যথাযথ ঘোষণা দিয়ে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্কুলটি বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দেন।
ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। গত ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ শুনানির পর রায়টি আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখেন ও এ বিষয়ে নিয়মিত আপিলের নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৩০ নভেম্বরকে নির্ধারণ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে স্কুলের বর্তমান কমিটির কারও বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কোনও অভিযোগ থাকলে তা আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।