এছাড়া, খালেদা জিয়া দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছার পর চানখাঁরপুলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের ফের সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে মহিলা দলের নেত্রী পপিসহ ১০-১২ জনকে আটক করে পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে কাকরাইল মোড়ে আসার আগেই তিন দিক থেকে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে আহত হন পুলিশের দুই সদস্য। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি। এখানে খালেদা জিয়ার গাড়ি ৭-৮ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর আবারও আদালতের পথে রওনা দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম বলতে পারেননি কর্তব্যরত পুলিশের এসি। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে কাকরাইল চার্চ মোড়ে বিক্ষোভকারীরা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পূর্ব ফটকে একটি মোটরসাইকেল ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ফটকের সামনে আরেকটি মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়। এ সময় অধিদফতরের সামনের সড়ক বিভাজকেও আগুন দিতে দেখা গেছে।
প্রধান বিচারপতির বাসভবনের গেটে আগুন দেওয়া বাইকটি এনএসআই কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বলে জানিয়েছেন ওই সংস্থার আরেক সদস্য। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা ব্যক্তিরাই গাড়িতে আগুন দিয়েছে।’
পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের বহির্বিভাগের বাইরের অংশে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। তখন সড়ক বিভাজকের ওপর থাকা ছোট ছোট গাছ ভাঙে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল নেতা আশরাফুল আলম রবিনের অভিযোগ, ‘পরীবাগের দিক থেকেই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা প্রথম হামলা করে।’
খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সাত রাস্তা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ধীর গতিতে চলতে থাকে। সাত রাস্তা পার হওয়ার পর ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে এসে বহরে যুক্ত হয়। এ সময় তাদের কোনও ধরনের বাধা দেয়নি পুলিশ।
কুয়েত থেকে এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক। ওই বছরই ৪ জুলাই মামলাটি গ্রহণ করেন আদালত। তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।