যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, যাত্রাবাড়ী থানার শেখদি আবুল মোল্লা স্কুল রোডের একটি একতলা ভবনে পরিবার নিয়ে বাস করতেন শাহানারা বেগম। বুধবার বিকালে মেয়ে শারমিন এবং ছোটবোন সাজেদাসহ চার জন মিলে ছাদে বসে কাঁথা সেলাই করছিলেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একতলার ওই ছাদে থাকা একটি রডের সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-মেয়ে মারা যান।
ওসি বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের আবেদন করা হয়েছে। লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’
আহত সাজেদা বেগমের স্বামী ফিরোজ মৃধা জানান, বিকালেই তার স্ত্রী শারমিনদের বাসায় বেড়াতে যায়। তারা একসঙ্গে নির্মাণাধীন ওই ভবনের ছাদে ওঠে কাঁথা সেলাই করছিল। প্রথমে মেয়ে ছাদের একটি রড ধরলে তা পাশে থাকা ৪৪০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পরে মা শাহানারা বেগম মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে বিুদ্যৎস্পৃষ্ট হন। তাদের দু’জনকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয় অপর দু’জন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের দুই হাত ঝলসে গেছে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, শাহানারা বেগমের স্বামী দেলোয়ার হোসেন। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আর নিহত শারমিন স্থানীয় আব্দুল মোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, জোছনা বেগমের শরীরের ২৫ শতাংশ ঝলসে গেছে। তার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সাজেদা বেগমের দুই হাত ঝলসে গেছে।