ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার পরপরই হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়া ফয়জুরকে এখনও সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদকারী একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, তারা হামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছেন। হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং ফয়জুরকে কারা নির্দেশনা দিয়েছে তা শনাক্ত করতে পেরেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করছেন না।
সোমবার রাতে দীর্ঘ আলাপচারিতায় পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশ্যাল অ্যাফেয়ার্স) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘হামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। হামলা এবং হামলাকারীর পূর্ণাঙ্গচিত্র অনুসন্ধানের জন্য একটু সময় লাগছে। তবে শিগগিরই সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফয়জুরের একটি আইডিতে দেখা যায়, আতিকুর বিন ফয়জুর নামে খোলা হয়েছে। ফয়জুরের বাবার নাম আতিকুর। ওই আইডি থেকে সালাউদ্দিনের ঘোড়া, উম্মাহ মিডিয়া, আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা এককিউআইএস, গুরাবা মিডিয়া, আল বুরকান মিডিয়া, মুসলিম উম্মাহ, উসামা মিডিয়া, দ্য ফ্লেম অব ইসলাম, আবাবিল মিডিয়া, রেইন ড্রপস, উম্মাহর কণ্ঠস্বর, তাওহীদি জনতার কণ্ঠস্বর, শায়েখ তামিম আলদানী হাফিজাহুল্লাহ, আতঙ্কের এসপাইন্ডার ইত্যাদি নামে জঙ্গিবাদ প্রপাগান্ডা প্রচারের গ্রুপগুলোতে সংযুক্ত ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ফয়জুর নিজে নিজে র্যাডিক্যালাইজ হলেও হত্যার নির্দেশদাতা কেউ একজন ছিল। তার নির্দেশেই কমান্ডো চাকু নিয়ে জাফর ইকবালের ওপর সে হামলা চালায়। ঘটনার সময় আশপাশে একাধিক লোক তার সঙ্গে ছিল। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে আরেকটি চাকু পাওয়া গেছে বলেও শোনা গেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে চাননি।
এদিকে ফয়জুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটির সন্ধান করছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার টেলিগ্রাম অ্যাপসের আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে তার সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ফয়জুরের ব্যবহৃত ডিভাইসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা পেলে জিজ্ঞাসাবাদে তাকে ‘ব্রেক ডাউন’ করা অনেক সহজ হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক তরুণ। তাৎক্ষণিক জাফর ইকবালকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারী ওই তরুণকে আটক করে শিক্ষার্থীরা, যার কাছ থেকে একটি রক্তমাখা কমান্ডো নাইফ (ছুরি) উদ্ধার করা হয়। দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি, র্যাব, সিআইডি, পিবিআই এবং ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট একযোগে কাজ করছে।
এদিকে ঘটনার পর রাতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাফর ইকবালকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আনা হয়। জাফর ইকবাল বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তবে আরো কয়েকদিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে। জাফর ইকবালের ওপর হামলার কারণে গত কয়েকদিন ধরেই সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন হয়ে আসছে।