মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন।
মামলার অপর আসামি মো. ইউসুফ মারা যাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এসময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম, প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, প্রসিকিউটর সবিনা ইয়াসমিন মুন্নি প্রমুখ। এছাড়া আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট গাজী এইচএম তামিম।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আমির আলী, আবুল কালম ও জয়নাল আবদীনকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। আর আব্দুল কুদ্দুসকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ তিনটি হলো
এক. ১৯৭১ সালের ১৫ জুন নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন শ্রীপুর ও সোনাপুর গ্রামে আমির আলী, আবুল কালম, মো. ইউসুফ (মৃত),জয়নাল আবদীন এবং আব্দুল কুদ্দুসসহ ২০-২৫ জন স্বশস্ত্র রাজাকার ৭০-৭৫ জন পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে আক্রমণ করে গ্রামের ৪১ জনসহ শতাধিক নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা, অমানুষিক নির্যাতন, বাড়িঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে।
দুই. ১৯৭১ সালের ১৩ সপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টা-৭টা পর্যন্ত নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন পশ্চিম করিমপুর ও দেবীপুর গ্রামে আমির আলী, মনসুর (পলাতক) ও জয়নাল আবদীনসহ ১৫-২০জন রাজাকার ও ৮-১০জন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমদকে হত্যা ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ওরফে কালাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া ও পরে তার লাশ না পাওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের বাড়িঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
তিন. ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা-১১টা পর্যন্ত নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন রামহরিতালুক, দেবীপুর ও উত্তর চাকলা গ্রামে আমির আলী, মনসুরসহ ৫০/৬০জন রাজাকার ও ১৫০/২০০জন পাকিস্তানি সেনা নিয়ে আক্রমণ করে আনুমানিক ৩০০ নিরীহ নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে আটক করে রামহরিতালুক স্কুল/ইউনিয়ন বোর্ড অফিসের সামনে নিয়ে এসে নির্যাতন করে এর মধ্যে ৯ জনকে গুলি করে হত্যা এবং অনেক বাড়িঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে।
এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা প্রমুখ। আর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী তারিকুল ইসলাম, গাজী এইচএম তামিম, মাসুদ রানা প্রমুখ।
২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তৈরি করা হয়। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নোয়াখালীর সুধারামে ১১১ জনকে হত্যা-গণহত্যাসহ তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।