এর আগে গত ১৩ মার্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২৮ মার্চ কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন বকশী বাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ জজ ৫ নম্বর আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। এখন আদালতে গিয়ে বলতে পারবো ম্যাডামকে আনবে কিনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের কাছে যেটুকু তথ্য আছে তাতে নিশ্চিত করে বলতে পারবো না খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হবে কিনা।’
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ জানে খালেদা জিয়াকে হাজির করবে কিনা। আজকে যুক্তি উপস্থাপন জন্য দিন ধার্য আছে তাই যুক্তি উপস্থাপন জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।’
জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে নেওয়ার ব্যাপারে আমার কাছে কোনও নির্দেশনা পাইনি।
এদিকে, খালেদা জিয়াকে বকশীবাজার আদালতে হাজিরা করা নিয়ে বিএনপি’র রাজনৈতিক প্রস্তুতিও রয়েছে। খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হলে আইনজীবীদদের পাশাপাশি দলের নেতারা আদালতে যাবেন। এছাড়া বকশীবাজার এলাকায় নেতাকর্মীরা যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।
চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ম্যাডামকে আদালতে আনা বা না আনা নির্ভর করছে সরকারের ওপর। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। ওদিন বিকাল থেকে তিনি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোড়ের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, কুমিল্লায় নাশকতা মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতের হাজিরের কথা রয়েছে। গত ১২ মার্চ কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলী আদালতের দায়িতপ্রাপ্ত বিচারক মো. মুস্তাইন বিল্লাহ ২৮ মার্চ খালেদাকে হাজির করতে আদেশ দেন।
২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় হরতাল-অবরোধের সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা মারলে ৮ জনের মৃত্যু হয়। এ অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বিএনপি-জামায়াতের ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে, আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি দেখিয়ে মামলা করেন।