বিজিএমইএ’ র সংশোধিত মুচলেকায় যা থাকতে হবে

বিজিএমইএ ভবন (ছবি- নাসিরুল ইসলাম)

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) মুচলেকা সংক্রান্ত আবেদন সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আবেদনে দুটি বিষয় উল্লেখ করতে বলেছেন আদালত। পরবর্তীতে আর সময় না চাওয়া এবং আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বিজিএমইএ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরে পরিবর্তন হলেও যে আর সময়ের আবেদন করা হবে না- এই বিষয় দুটি আবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৮ মার্চ) এ মামলার অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আদালত এর আগেও ভবন ভাঙতে বিজিএমইএ’কে দুবার সময় দিয়েছেন। এরপরও তারা আবার এক বছর সময় চাইছে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে আদালত সম্পর্কে ভুল ধারণা হতে পারে। তাই বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ যেন পরবর্তীতে আর সময় বাড়ানোর আবেদন না করেন সেজন্যই সংশোধিত আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘আজ (বুধবার, ২৮ মার্চ) সকালেই বিজিএমইএ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এর পক্ষ থেকে একটি মুচলেকার আবেদন দাখিল করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, বোর্ড অব ডিরেক্টরস আর সময় চাইবে না। তারা যদি আর সময় চায় তাহলে তারা দায়ী হবেন। তখন কোর্ট জানতে চান, বিজিএমইএ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরস ৬ মাস বা ১ বছর পর তো নাও থাকতে পারে। নতুন ডিরেক্টররা সময় চাইলে কী হবে? অথচ সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা নেই মুচলেকায়।’

তিনি বলেন, “বিজিএমইএ যে আবেদন করেছিল সেখানে বলা হয়েছে, এই সময়ের (১ বছর) পর ভবন ছেড়ে দেবে। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা ছিল ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভাঙতে হবে। সে বিষয়েও কিছু বলা নাই। সে বিষয়ে আদালত প্রশ্ন তুললে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে তখন নতুন করে মুচলেকা দেওয়ার কথা বলেন বিজিএমইএ’র আইনজীবী। এখন তিনি (আইনজীবী) বিজিএমইএ’র ডিরেক্টরদের সঙ্গে কথা বলে নতুন আবেদন আদালতে দাখিল করবেন। বিজিএমইএ’র সেই আবেদনে অবশ্যই থাকতে হবে, এবার সময় দেওয়া হলেও তারা আর সময় চাইবে না। সময় শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিএমইএ নিজেরাই ভবনটি ভেঙে ফেলবে। আর আদেশ না মানলে বিজিএমইএ দায়ী থাকবে। তখন ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পদক্ষেপ নেবে।”

এর আগে বুধবার সকালে বিজিএমইএকে সংশোধিত মুচলেকা আদালতে জমার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী সোমবার (২ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম।