সোমবার (২ এপ্রিল) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রমনা জোনের পুলিশের উপ-কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের অতিরিক্ত কমিশনার, দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার, পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনারসহ মোট ১৪ জন বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিএনপি’র এই চার নেতা হলেন— দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছা সেবক দলের সভাপতি শফিউর রহমান বাবু, ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজ, তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিলন। এর মধ্যে মিলন পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, একেএম এহসানুর রহমান, মীর হেলাল প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিএনপির এই চারজনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে মিলনের ওপর অম্ভবত অত্যাচার করা হয়েছে। পরে তার মৃত্যু হয়েছে। আমাদের আপিল বিভাগের একটি রায় আছে— কীভাবে গ্রেপ্তার করতে হবে, রিমান্ডে নেওয়ার ব্যাপারে অনেকগুলো বিষয় আছে, যেটা সবার জন্য, প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক। খুবই পরিচ্ছন্ন এবং সুদূরপ্রসারী রায়। আদালতে তাদের (বিএনপির চার নেতা) গ্রেফতারের পর খবরের কাগজ দিয়েছি। কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে এটা আইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। আদালত রুল দিয়েছেন। কারণ দর্শানোর জন্য।’ এ বিষয়ে আগামী ১ আগস্ট পরবর্তী শুনানি হবে জানিয়েছেন আদালত।
প্রসঙ্গত, এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে, ৬ মার্চ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবং ঢাকা তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে, ৮ মার্চ ছাত্রদলের ঢাকা উত্তরের সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান রাজকে সাদা পোশোকে গ্রেফতার করা হয়।
মিলনকে শাহবাগ থানার এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওই সময় মিলনের পরিবার তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। পরে ১২ মার্চ মিলনের পরিবার জানতে পারে, মিলনের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আছে।
পরে এসব ঘটনায় বিএনপির এই চার নেতার বিষয়ে গত ২৯ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখার রিটটি দায়ের করেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজুদ্দিন আহমেদ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।