বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এই দিন নির্ধারণ করেন। সুন্দরবনের চারপাশে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাখিল করা এক প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি লাল ও বাকিগুলো কমলা ও সবুজ শ্রেণির।
প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত বলেন, ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিবেশগত প্রতিপন্ন এলাকায় লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকার সুযোগ নেই। কারণ এগুলো মাটি, পানি ও বায়ু ব্যাপকভাবে দূষিত করে। ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই ২৪টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এরপর আদালত এ বিষয়ে আগামী ৯ মে আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে, গত বছরের ২৩ আগস্ট বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সুন্দরবনের আশপাশে নতুন শিল্প কারখানা অনুমোদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। একইসঙ্গে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শিল্প কারখানা স্থাপনের অনুমোদন কেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের লঙ্ঘন হবে না এবং নতুন শিল্পকারখানা কেন অপসারণ করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
এছাড়া, ওই ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বর্তমানে কতগুলো শিল্পকারখানা রয়েছে, তার তালিকা ছয় মাসের মধ্যে দাখিলে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। সেই আদেশ অনুযায়ীই আদালতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের আশেপাশে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা শিল্পকারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিতে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম গত বছরের ৪ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন এবং এর চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। এ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না।
তবে ওই এলাকাতে এরই মধ্যে প্রায় ১৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প করার জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এর মধ্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পসহ পরিবেশ দূষণকারী প্রকল্প রয়েছে বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়। এসব শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ ও পরিবেশ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লংঘন। তাছাড়া এসব শিল্প কারাখানা সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে রিটে দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন-
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ৭ জনের জামিন
‘খালেদা জিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতে হাজির করা যেতে পারে’