একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার আবদুল আজিজ ওরফে হাবুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আগামী ৪ জুলাই প্রসিকিউশন পক্ষের সূচনাবক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৫ মে) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেন।
আবদুল আজিজ ওরফে হাবুল ছাড়া অন্য দুই আসামি হলেন, আবদুল মতিন ও আবদুল মান্নান ওরফে মনাই। আসামিদের মধ্যে আবদুল মতিন মনাই পলাতক।
হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, লুট, অগ্নিসংযোগসহ আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।
এদিকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সময় কারাগারে থাকা দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর মামলায় তদন্ত শুরু করেন মামলার (আইও) তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ্জাহান। প্রসিকিউশনের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বড়লেখার তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ওইদিনই দুই সহোদর আবদুল আজিজ ও আবদুল মতিনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর তিন আসামির বিরুদ্ধে ৫ ধরনের অপরাধে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা। পরে তা প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হয়।
আসামিদের মধ্যে আবদুল আজিজ ও তার ভাই আবদুল মতিনের বাড়ি বড়লেখা পৌরসভার পাখিয়ালা গ্রামে। তারা একাত্তরে ছাত্রলীগ করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এ দুই সহোদর মুক্তিযুদ্ধে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের বারপুঞ্জিতে যান। কিন্তু প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তারা পালিয়ে এসে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। অন্য আসামি আবদুল মান্নান একাত্তরে স্থানীয় মুসলীম লীগের নেতা ছিলেন। তিনি শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম গ্রামের বাসিন্দা।