এর আগে রবিবার (১৩ মে) সংশ্লিষ্ট থানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (পরিদর্শক) মাহবুব আলম বাদী হয়ে এ তিন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এগারো জন আসামির অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলার অনুমতিও চান। পরে গত ৪ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এগারো জনকে অব্যাহতি দেওয়াসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দেন।
অব্যাহতি পাওয়া আট ব্যক্তি হলেন—বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এস এ সিদ্দিক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা সামিউল হক, লুৎফর রহমান, বিমল চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান।
গত ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এম এম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজটি প্রধানমন্ত্রীর বুদাপেস্ট সফরের জন্য ঠিক করা হয়। আসামিরা বাংলাদেশ বিমানের প্রকৌশল বিভাগের পদস্থ কর্মকতা। তাদের ওপর ওই উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। তারা গত ২৬ নভেম্বর উক্ত উড়োজাহাজ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ওই উড়োজাহাজ গত ২৭ নভেম্বর সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
উড়োজাহাজটি আনুমানিক ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ওড়ার পর পাইলট ইঞ্জিনে তেল কমার লক্ষণ দেখতে পান। এর ৩০ মিনিট পর পাইলট ইঞ্জিনের তেলের চাপ আরও কমার লক্ষণ দেখতে পান। এরপর বাংলাদেশ সময় ১টা ৫৮ মিনিটে ইঞ্জিনে তেলের চাপ লিমিটের নিচে নেমে আসায় উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই তুর্কমেনিস্তানে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। এরপর বাম পাশের ইঞ্জিনের কাইরলং খোলা হলে ওয়েল প্রেসারের বি-নাট ঢিলা পাওয়া যায়। পরে তা মেরামত করা হলে প্রধানমন্ত্রী ওই উড়োজাহাজেই বুদাপেস্ট যান।
এই ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ ২৮ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে আসামিদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ব্যর্থতার তথ্য উঠে আসে।