সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের আগাম জামিন বিষয়ে রায় ৩১ জুলাই



সুপ্রিম কোর্টঅবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে উচ্চ আদালতের দেওয়া আগাম জামিন নিয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৩১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (২৩ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি ড. কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি নিয়ে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে জয়নুল আবেদীনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহারিন ও এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। এছাড়া দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
শুনানি শেষে আমিন উদ্দিন মানিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোমবার (২৩ জুলাই) মামলাটি রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ ছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুলের আগাম জামিনের বিষয়ে সকাল ১১ টায় রায় পড়া শুরু করেন আদালত। তবে রায় পড়াবস্থায় প্রায় মিনিট দশেক পরে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন কোর্টে আসেন। আগের আদালতের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এ সময় তিনি আগাম জামিন বিষয়ে বেশ কিছু মামলার রেফারেন্স নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই রেফারেন্সের ফটোকপি না আনায় এবং শুনানির জন্য সময় চাইলে আদালত তাকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সময় দেন। আদালত বলেন, আমরা মামলাটি গভীরভাবে দেখছি। আপনার শুনানি শেষ হলেই রায় দেবো।’
আমিন উদ্দিন মানিক আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুসারে মামলাটির ওপর দুপুর ২টায় সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী মঈনুল হোসেম শুনানি করেন এবং আগাম জামিন প্রশ্নে বিভিন্ন নজির উপস্থাপন করেন। পরে আদালত পুনরায় আগামী ৩১ জুলাই এ মামলার রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ১০ জুলাই মামলাটির রুলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৭ ও ১৯ জুলাই রায়ের জন্য ধার্য ছিল। ১৯ জুলাই আদালত জানতে চান, মামলা ছাড়া আগাম জামিন দেওয়া যায় কিনা? তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী মামলা ছাড়া আগাম জামিনের বিষয়ে নজির দেখানোর জন্য সময় চান। আদালত সময় মঞ্জুর করে সোমবার (২৩ জুলাই) রায়ের জন্য দিন ধার্য রাখেন। তবে এদিন শুনানি নিয়ে পুনরায় মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন আদালত।’
প্রসঙ্গত, সম্পদের তথ্য বিবরণী চেয়ে ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে একটি নোটিশ দেয় দুদক। পরে ওই বছরের ৩ নভেম্বর তিনি তার সম্পদের তথ্য দুদকে জমা দেন। তবে এর দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তার কাছে সম্পদের ব্যাপারে ব্যাখ্যা চায় দুদক। পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন। এরপর ওই বছরের জুনে একটি পত্রিকায় ওই বিচারপতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার ও হয়রানির আশঙ্কা থেকে তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।
এরপর ২০১৭ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন এবং কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করেন। জারি করা ওই রুলের বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। সে অনুসারে হাইকোর্টে রুলের ওপর শুনানি হয়।