শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দুই বাসচালকসহ গ্রেফতার ৪

নিহত দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম সজীববাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বাসচালক ও তাদের সহকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (৩০ জুলাই) ভোরে রাজধানীর মিরপুর থেকে তারা ধরা পড়ে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১ উপ-অধিনায়ক মেজর ইশতিয়াক আহমেদ।

গ্রেফতার হওয়া জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসচালক হলো জুবায়ের ও সোহাগ। তবে তাদের সহকারীদের নাম জানা যায়নি। গ্রেফতার ব্যক্তিদের ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাবালে নূরের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘চালক সোহাগকে মিরপুরের কবরস্থান এলাকা থেকে ধরে র‌্যাবের হাতে তুলে দিয়েছি আমরা। সে এখন ক্যান্টনমেন্ট থানায় আছে। আমরা কখনোই বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে সমর্থন দেই না। অভিযুক্ত বাসচালক ও হেলপাররা দায়ী হলে অবশ্যই তাদেরকে শাস্তি পেতে হবে।’

এদিকে বাসচালক ও চালকের সহকারীদের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রবিবার রাতে মামলা করেন নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীমের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহান হক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিকের বেশি বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।