আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুন্তাকিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আল আমিন সরকার।
এর আগে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ২০০৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় গত ১১ জুলাই আইনি নোটিশ পাঠান নাছির উদ্দিন বাচ্চু নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু সে নোটিশের জবাব না পাওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন সুচি (২২)। এই মৃত্যুর ঘটনায় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এরপর ২০০৮ সালের ১০ মার্চ বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (সাবেক প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি আবদুল আউয়ালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সড়কে গতিনিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, রায়ের পর থেকে এক বছরের মধ্যে গতিনিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়।
এছাড়া, ওই রায়ে সব ট্রাফিক হেডকোয়ার্টারে গতিনিয়ন্ত্রক মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন করতে বলা হয়। আর একই সময়ের মধ্যে যেসব গাড়িতে ওই নিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপন করা হবে না তার মালিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে সংস্থাপন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ব্যবস্থা করতে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া, এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে আদেশ কার্যকর করতে ও বিআরটিএ-কে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে গত দশ বছরেও রায় অনুসারে সড়কে গতিনিয়ন্ত্রক যন্ত্র বসানের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় আদালত অবমাননার অভিযোগে রিট দায়ের করা হয়। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।