পেট্রোবাংলার ৭ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ



দুদকবড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় পেট্রোবাংলার সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম। দুদকের উপ-পরিচালক(জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এই সাতজনসহ ৩২ জনকে বিভিন্ন তারিখে তলব করা হয়েছে। এই সাতজনকে আজ তলব করা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে দুদক কার্যালয়ে আসেন পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক (মেনটেইনেন্স অ্যান্ড কন্টাক্ট ম্যানেজমেন্ট) মো. নাজমুল হক, ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. শোয়েবুর রহমান ও ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. সাইদ মাসুদ। দুপুর দেড়টার দিকে আসেন উপ-ব্যবস্থাপক (মেনেটেইনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মাহাবুব হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. মনিরুজ্জামান ও সহকারী ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. মাহাবুব রশিদ। বেলা দুইটার দিকে দুদক কার্যালয়ে আসেন ব্যবস্থাপক (স্টোর) মো. দিদারুল কবির। তলব করা বাকি কর্মকর্তাদের আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ আগস্ট জিজ্ঞাসবাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, খনি থেকে এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, খনি উন্নয়নের সময় (২০০১) থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন কয়লা বিক্রি এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হয়। কয়লার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুদ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু বাস্তবে মজুদ ছিল প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন। এই হিসাবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন আসামি আগে থেকেই তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সংঘটিত কয়লা চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অনুমিত হয়।
কয়লা উধাওয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক শামসুল আলম এবং অন্য দুই সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক এএসএম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এএসএম তাজুল ইসলাম।