সড়ক শৃঙ্খলায় আজ শুরু মাসব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযান

মহাসড়কে যানবাহন (ফাইল ছবি)সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্বিতীয় দফায় ঢাকাসহ সারাদেশে শুরু হচ্ছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। আইন প্রয়োগে কঠোরতার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে পুলিশ। ৪ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) থেকে মাসব্যাপী এই অভিযান চলবে। পুলিশের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্কাউটরাও কাজ করবেন এ অভিযানে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন ও সড়কে নিরাপদ থাকার বিষয়টি জানা না থাকলে সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবেই।

এর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলার সময়ে গত ৫ আগস্ট পুলিশ সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করে।  

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা বাধার কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ ট্রাফিক আইন মানেন না। যে কারনে সড়কে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তাই সবার মধ্যে আইন মানার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে। সেজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে। সড়ক ব্যবহারে পথচারী, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকসহ সবপক্ষের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করবে পুলিশ। এরইমধ্যে সারাদেশের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইজিপি।

পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সারাদিন রোদ-বৃষ্টিসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করেন। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় কাজ করার পর অনেকেরই মানসিক অবস্থা খিটখিটে হয়ে যায়। অন্যদিকে, পথচারী, গাড়ি চালক ও যাত্রী কেউই ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সহযোগিতা করতে চান না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেন তারা। এছাড়া সবার সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ কখনোই নিশ্চিত করতে পারবে না।

পুলিশ সদর দফতরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এআইজি মোশাররফ হোসেন মিয়াজি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ বৈঠক ছাড়াও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কাজও চালানো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটছে বড় যানবাহনগুলোর সঙ্গে ছোট যানবাহনের। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার ২৫ ভাগই হচ্ছে আইন না মানার কারণে। সে জন্য মহাসড়কে যেন ছোট যানবাহন চলতে না পারে, সে জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।’

মোশাররফ হোসেন মিয়াজি আরও বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি না চালানো, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক নিয়োগ করা ছাড়াও দীর্ঘ পথে অতিরিক্ত চালক নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্সে ভারী গাড়ি না চালানো ও নির্ধারিত যানবাহনের জন্য নির্ধারিত ড্রাইভার নিয়োগ করার জন্য বলা হয়েছে। বেপরোয়া ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। হেলপার ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক দিয়ে গাড়ি না চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এ নিয়ে ব্রিফিং করবেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিগত সময়ে ট্রাফিকের অর্জন ও সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলবেন কমিশনার। তাছাড়া ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোরতার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও মাসব্যাপী কাজ শুরু করবে পুলিশ।’

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ছে। এখন মোটরসাইকেলে দুই জনের বেশি আরোহী থাকে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুই জনের মাথায় হেলমেট থাকে। ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফিটনেস ও রুটপারমিট ছাড়া যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে সেখানে বাস থামানো নিরুৎসাহিত করছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা খুব কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করছি। ধীরে ধীরে ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।’

মোসলেহ উদ্দিন আরও বলেন, ‘পথচারী ও যাত্রীদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে স্কাউট, গার্লস্ গাইডদেরও সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় থাকব। স্কুলগুলোর সামনের রাস্তায় স্কুলের ভলন্টিয়ার দিয়ে রাস্তাপারাপারে সহযোগিতা করছি পথচারীদের। পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাবো যেন সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলে। রাজধানী ঢাকার ৪০টি পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। সেগুলো নিয়মিত কাজ করছে। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও মাসব্যাপী অভিযান শুরু হবে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, পুলিশ হোক আর সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী হোক, সবার বিরুদ্ধেই আইন প্রয়োগে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।’