মেঘনা-মেনিখালী নদীতে নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থার আদেশ

 

সুপ্রিম কোর্টনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা ও মেনিখালী নদীর দখল করে সেখানে নির্মাণকাজ চালানোর ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নদী দখল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং ভরাটকৃত মাটি ও স্থাপনা অপসারণের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এছাড়া, সিএস-আরএস রেকর্ড অনুযায়ী নদী দু’টিকে সংরক্ষণের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত দুটি রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

পরিবেশ ও পানিসম্পদ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিটিএ)’র চেয়ারম্যান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সোনারগাঁওয়ের ভূমি কর্মকর্তাসহ ১২ বিবাদীকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।   

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান খোকন।

শুনানি শেষে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে মেঘনা ও মেনিখালী নদী দখল, ভরাট ও নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, একটি কমিটি গঠন করতে। সেই কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকা জরিপ করে দখলকারীদের নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে।’

এদিকে, রিট আবেদনে বলা হয়, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ ও ‘জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’-এর বিধান অনুযায়ী নদীর জায়গা দখল, ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সেসব আইন অমান্য করে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ‘আমান ইকোনোমিক জোন’ ও মেনিখালী নদীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভরাট ও অবৈধ দখল অব্যাহত রেখেছেন।

আইনে এই ধরনের দখলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরও স্থানীয় প্রশাসন নীরব থাকায় নদী দখল অব্যাহত রয়েছে। তাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ যুক্ত করে গত ৯ সেপ্টেম্বর হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশেরর (এইচআরপিবি) পক্ষে রিট দু’টি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রিপন বাড়ৈ। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারিসহ আদেশ দেন।