দুদকের এই উপ-পরিচালক জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান ও উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামানের সমন্বয়ে একটি টিম অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানের সময় দুদক টিম পদোন্নতিযোগ্য ৩৮ জনের নথি তলব করে। এ সময় তাদের ব্যক্তিগত নথিতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের অনুমতি নেই। তবু, তারা প্রত্যেকেই তাদের ব্যক্তিগত ফাইলে বেআইনিভাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ যুক্ত করেছে। পদোন্নতির জন্য তাদের জমাকৃত রেকর্ডপত্র দুদকটিম কর্তৃক যাচাই-বাছাইকালে ২৮ জনের জাল কম্পিউটার সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
দুদক জানায়, জাল সনদ পাওয়ার পর দুদক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহমুদ হাসানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সনদ জালিয়াতির ঘটনাটি ধরা পড়ায় পদোন্নতির বিষয়ে আগামী ৯ অক্টোবর পদোন্নতি কমিটির সভা স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে জাল সনদ ব্যবহারের দায়ে ২৮ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া যারা এই কাগজপত্র সত্যায়িত করেছেন ও জেলা অফিস থেকে তা যাচাই না করেই প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন, প্রধান কার্যালয়ে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদফতরের তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটিকে এ বিষয়গুলো কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে দুদক টিম। এছাড়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিরোধে মনিটরিং ইউনিট গঠন, বিভিন্ন কেনাকাটায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে প্রতিপালন, হ্যান্ডলিং ও ম্যানেজিংয়ের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ভেঙে আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে তদবির ও ঘুষ লেনদেন যেননা হয়, সেজন্য কঠোরভাবে মনিটরিং করার পরামর্শ দিয়েছে দুদক টিম।
অভিযান প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘সততা ও মূল্যবোধের অভাবে কীভাবে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়, এ ঘটনা তার প্রমাণ। দুদক দুর্নীতি ও অবক্ষয় রোধে আরও কঠোর অভিযান চালাবে।’