প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সিন্ডিকেট করে চলা সংশ্লিষ্ট ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ২০ বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন— জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন— ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল।
মালেশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার চুক্তি উপেক্ষা করে ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বঞ্চিত অপর ১০টি এজেন্সি হাইকোর্টে রিট করেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারিসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
পরে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া, ২০০৯ সালে দেশটি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০১২ সালে সরকারিভাবে কর্মী পাঠাতে দুই দেশ চুক্তি করে। এরপর আড়াই বছরে আট হাজার কর্মী সেখানে যান। তবে সাগরপথে অবৈধভাবে বিপুল সংখ্যক লোক মালয়েশিয়ায় যান। ২০১৫ সালের মে মাসে থাইল্যান্ডে এবং পরে মালয়েশিয়ায় গণকবর পাওয়ার গেলে বিশ্বজুড়ে হইচই শুরু হয়। এরপর আবারও বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া।’
এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে জি টু জি প্লাস (সরকারি-বেসরকারি) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মালয়েশিয়া বলে, এই মুহূর্তে তারা আর কর্মী নেবে না। এতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। এরপর ২০১৬ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার এক মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসে। তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আবার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের এক বছর পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো শুরু হয়।’
জি টু জি প্লাস চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া হয় অনলাইনে। এ কাজের জন্য সিনারফ্ল্যাক্স নামে একটি কোম্পানিকে নিয়োগ দেয় মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ার কোম্পানি সিনারফ্ল্যাক্সের সঙ্গে বর্তমানে কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশের ১০টি এজেন্সি সিন্ডিকেট তৈরি করে কাজ করছে। এ সিন্ডিকেটের ফলে অন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কর্মী পাঠানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে, একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগে শ্রমিকদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয় বলে জানান রিটকারীদের আইনজীবী রাশনা ইমাম।
প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সিন্ডিকেটের সঙ্গে কাজ করা ১০টি এজেন্সি হলো- ক্যারিয়ার ওভারসিজ, এইচএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স, সানজারি ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বী ইন্টারন্যাশনাল, প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটস, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম ও আল ইসলাম ওভারসিজ।