এ দিন বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আসলাম ও রিগ্যানের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহমেদ জেরা শুরু করেন। আংশিক জেরা শেষে বিচারক পরবর্তী জেরার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। বাকি চার আসামির জন্য সরকারি আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে পলাতক দুই আসামি শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।একই সঙ্গে সাক্ষীর জন্য ৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ৮ আগস্ট আটজন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের স্টেনোগ্রাফার হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।
এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলাটির চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। পরে ৩০ জুলাই মামলাটির চার্জশিট গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছায়।
চার্জশিটে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
চার্জশিটভুক্ত ৮ আসামি হলেন, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি ৬ জন আসামি কারাগারে আছেন।
ঘটনাস্থলে মামলার ৫ আসামি নিহত হয়। তারা হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এ ছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো- তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।