চুড়িহাট্টার সেই কেমিক্যাল গোডাউনের মালিক পার্ল ইন্টারন্যাশনালের সবাই লাপাত্তা!

পার্ল ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তারারাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউনটি ছিল পার্ল ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের। সেখান থেকেই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। অন্তত তিন দশক ধরে সুগন্ধি ও কসমেটিক্স পণ্য আমদানি ও সরবরাহ করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। আগুনের ঘটনার পর থেকে তারা সবাই লাপাত্তা! হাতিরপুল এলাকায় তাদের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। যোগাযোগের সব নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আত্মগোপন করে আছে এই প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভবনের মালিক হাসান ও সোহেলকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। তাদের ধরতে পারলে ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় কারা কেমিক্যাল গোডাউন ভাড়া নিয়েছিল তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবো। একইসঙ্গে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানেও কেমিক্যাল গোডাউনের মালিককে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছি।’
চকবাজারের যে কেমিক্যাল গোডাউন থেকে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত সেটি আসলে কোন প্রতিষ্ঠানের? এর মালিকই বা কে? এসব প্রশ্ন জনমনে ঘুরছিল। এর উত্তর জানতে গত এক সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন। আগুনে পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন সুগন্ধি ও এয়ার ফ্রেশনার ক্যানের সূত্র ধরে জানা যায়, এসব সুগন্ধি ও সৌন্দর্য প্রসাধনী আমদানি করে পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর একাধিক সুপারশপ ও কসমেটিক্স পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ফ্রেশ অ্যান্ড মোর এয়ার ফ্রেশনার, ভারতীয় সৌন্দর্য প্রসাধনী রেভলন, ইতালিয়ান ব্র্যান্ড ফ্লোরমার, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বডি স্প্রে লেয়ার, মালিজিয়া ব্র্যান্ডের বিভিন্ন সুগন্ধি, বডি স্প্রে, হেয়ার কেয়ারসহ বিভিন পণ্য আমদানি করতো।
বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে পার্ল ইন্টারন্যাশনালের আমদানি ও বাজারজাত করা কিছু পণ্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া স্টিকার থেকে পার্ল ইন্টারন্যাশনালের দুটি ঠিকানা পাওয়া যায়। এর মধ্যে চকবাজারের ৬৪ নন্দ কুমার দত্ত রোডের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর হোল্ডিং মিলেই ওয়াহেদ ম্যানশন, যেখানে আগুন লেগে মারা গেছে ৭১ জন। কিছু পণ্যের গায়ে লেখা ঠিকানা ছিল ৬৬ মৌলভীবাজার। একইসঙ্গে পার্ল ইন্টারন্যাশনালের আমদানি করা কয়েকটি পণ্যের গায়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) অনুমোদনসহ দুটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে বিএসটিআইয়ের রেজিস্ট্রেশন ফর্মেও পার্ল ইন্টারন্যাশনালের ঠিকানা হিসেবে পুরান ঢাকার ৬৬ মৌলভীবাজার উল্লেখ রয়েছে। সরেজমিন এই ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায় তাজমহল মার্কেট নামের আটতলা ভবন। সেখানকার প্রতিটি ফ্লোরে ঘুরে ঘুরেও পার্ল ইন্টারন্যাশনালের কোনও কার্যালয়, শো-রুম বা গোডাউন পাওয়া যায়নি। তাজমহল মার্কেট মালিক সমিতির অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনও হদিস দিতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক এসব ব্র্যান্ড আমদানি করে পার্ল ইন্টারন্যাশনালমৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান কোথায় আছে সেইটা তো আমরা কইতে পারুম না। এই দোকান এখানে আছে কিনা সেটা জানা বা খোঁজা আমার কাজ না।’ তিনি উল্টো পার্ল ইন্টারন্যাশনালের মালিককে খোঁজার কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে কেন খুঁজছেন? তার সঙ্গে কি কথা বলবেন? আপনারা গ্যাস সিলিন্ডারের কথা বলেন, কারণ আগুনটা গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই লাগছে।’

এই ব্যবসায়ীর মন্তব্য, ‘চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে আগুন লাগছে গ্যাস সিলিন্ডার থিকা, কিন্তু সেই কথা আপনারা লেখেন না কেন? আপনারা সিলিন্ডারের কথা বলেন না কেন? তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বডি স্প্রের কথা বলা হইছে, সিলিন্ডারের কথা কেউ কয় না। ঘটনা ঘটে এক আর বলে এক।’

পার্ল ইন্টারন্যাশনালের বিষয়ে জানতে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলতে থাকে বাংলা ট্রিবিউনের। খোঁজ করতে গিয়ে তাদের আরও দুটি ঠিকানা পাওয়া যায়। এর একটি হলো ৪৯ সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি। কিন্তু এই ঠিকানায় তাদের কোনও কার্যালয় পাওয়া যায়নি। একটি সুপারশপে ফ্লোরমার একজন বিক্রয়কর্মী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হাতিরপুল এলাকায় তাদের কার্যালয় আছে। কিন্তু বিস্তারিত ঠিকানা জানাতে পারেননি তিনি।
Pearl 2গুগল ম্যাপের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হয় হাতিরপুলের ১৩/১ সোনারগাঁও রোড কাশেম সেন্টারের ছয় তলায় পার্ল ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়। কিন্তু ওই কার্যালয়ে গিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে উল্লেখ করে ভবনটির দারোয়ান মুনছুর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ইমতিয়াজ নামে একজন এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  এর আগের রাতে চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুন ধরেছিল। 

একটি সূত্রের মাধ্যমে বাংলা ট্রিবিউনের হাতে আসে পার্ল ইন্টারন্যাশনালের অন্যতম পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদের মোবাইল নম্বর। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে সেটি। হেলাল নামে একজন এরিয়া ম্যানেজার বাংলা ট্রিবিউনের মোবাইল ফোন রিসিভ করলেও পরিচয় পাওয়ার পরপরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। এরপর বারবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পার্ল ইন্টারন্যাশনালের পাঁচজন এরিয়া ম্যানেজারের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হলেও সবই বন্ধ পাওয়া গেছে। 

অনুসন্ধানে বসুন্ধরা সিটির তৃতীয় তলার বি ব্লকের ৪৬ নম্বরে পার্ল ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ফ্লোরমার বাংলাদেশ নামে একটি বিউটি শপের ঠিকানা পাওয়া যায়। কিন্তু এর ম্যানেজার নিজেকে রাসেল বলে প্রকৃত পরিচয় আড়ালের চেষ্টা করেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার নাম রাফি মুকতার। তিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের লোক। রাসেল পরিচয়ে তিনি জানান, পার্ল ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয় হাতিরপুলে। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানের মালিক বা অন্য কারও সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।

মোজাম্মেল ইকবাল ও ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার পর থেকে লাপাত্তাজানা যায়, আশির দশক থেকে এই প্রতিষ্ঠান কসমেটিক্স ও সুগন্ধি সামগ্রী আমদানি করে আসছে। এসব পণ্যের বাজারের বড় একটি অংশ তাদের দখলে। এর মালিকপক্ষরা সবাই অবাঙালি। তাদের মারোয়ারী ব্যবসায়ী বলেই সবাই চেনে। মো. কাশিফ এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক। এছাড়া ইমতিয়াজ আহমেদ ও মুজাম্মেল ইকবালসহ পারিবারিক সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগ দেখাশোনা করেন। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক।

চকবাজারের কসমেটিক্স পণ্যের পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, পার্ল ইন্টারন্যাশনালের মালিকদের শতকোটি টাকার ব্যবসা আছে। ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালনা করে তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষপর্যায়ে তাদের ভালো যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণে এত ভয়াবহ একটি ঘটনার পরও পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

বাংলাদেশ কসমেটিক্স অ্যান্ড ট্রয়লেট্রিজ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন ব্যবসায়ী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পার্ল ইন্টারন্যাশনাল এই সংগঠনের সদস্য। তবে তাদের বিরুদ্ধে ‘দুই নম্বরী’ ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। আমদানি পণ্যের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড লাগিয়ে বিক্রি করতেন তারা। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুগন্ধি ক্যানে স্থানীয়ভাবে তৈরি উপাদান ভরে বিক্রির অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।

এই ব্যবসায়ী নেতার দেওয়া তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় চকাবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের স্থানীয় লোকজনের মুখে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অনেকেই জানান, তারা প্রতিদিনই চুড়িহাট্টায় সুগন্ধির ঘ্রাণ পেতেন। নতুন করে রিফিল করার কারণেই এই ঘ্রাণ ছড়াতো। কসমেটিক্স ও সুগন্ধি পণ্য আমদানি করা ওই ব্যবসায়ী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদেশি ব্র্যান্ড আমদানি করলে গ্যাস বের হওয়ার কথা নয়। কারণ তা প্যাকেটজাত থাকে। নতুন করে রিফিল করতে গেলেই ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে পার্ল ইন্টারন্যাশনালের গোডাউন গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল।’

একটি সুপারশপ থেকে সংগ্রহ করা ও আগুনে পুড়ে যাওয়া সুগন্ধির ক্যানে একই ঠিকানা পাওয়া যায়গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩২ মিনিটে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশেপাশের পাঁচটি ভবনে ভয়াবহ আকারে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ৭১ জন প্রাণ হারায়। আগুনে দগ্ধ ও নিরাপদ জায়গায় ছুটতে গিয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৪১ জন। নিহতদের মধ্যে জুম্মন নামে এক ব্যক্তির ছেলে আসিফ বাদি হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ভবন মালিক হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় রয়েছে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তিও।
চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আগুনের সূত্রপাত ও অন্যান্য কারণ অনুসন্ধান করতে ফায়ার সার্ভিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিস্ফোরক পরিদফতর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পক্ষ থেকে পাঁচটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ২ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরক পরিদফতরের প্রতিবেদন গেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ে। সবশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন। তিনটি প্রতিবেদনেই ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়- পারফিউম, বডি স্প্রে বা এয়ার ফ্রেশনারের ক্যানে সুগন্ধি বিউটেন, আইসো বিউটেন, আইসো প্রোপাইল অ্যালকোহল, রেকটিফাইড স্পিরিট বিভিন্ন অনুপাতে মেশানো থাকে। এগুলো বাতাসে মিশেই ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় গ্যাস চেম্বার তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত ৭ মার্চ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। চুড়িহাট্টায় কোনও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়নি। বৈদ্যুতিক শটসার্কিট কিংবা গোলযোগ থেকেও আগুন ধরেনি। ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যা পরে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।’
প্রতিবেদনে কী মতামত দেওয়া হয়েছে তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তার কথায়, ‘যে গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তারাই তো দায়ী হওয়ার কথা।’

হাসান ও সোহেলদুই সপ্তাহেও ধরা পড়েনি ভবন মালিক

ভয়াবহ আগুনের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক দুই ভাই হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উভয়ে এখনও পলাতক। 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপন করে আছে দুই ভাই। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে আসামি দুই ভাই সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। 

আলোচিত এই ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ভবন মালিক দুই ভাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’