শুক্রবার (৫ মার্চ) বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার রিমান্ড শুনানি হয়।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইয়ার খান রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি বলেছেন, গাড়িটিকে নিরাপদ জায়াগায় নিয়ে যেতে বাস মালিক তাকে নির্দেশ দেন। এছাড়া তো আর কোনও অভিযোগ নেই। তাছাড়া গাড়িটি ব্যাংক লোনে নেওয়া। এটার কিস্তি এখনও চলছে। আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার যুক্তিকতা নেই।’
শুনানির মাঝে বিচারক ননী গোপালকে বলেন, ‘আপনার কয়টা গাড়ি আছে?’ জবাবে গোপাল বলে, চারটা।
বিচারক শুনানির মধ্যে আইনজীবীকে বলেন, এই গাড়ির বিরুদ্ধে কয়টা মামলা আছে। আইনজীবী বলেন,স্যার গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকতে পারে। সিগ্যনাল না মানলে,স্টোপেজ ছাড়া গাড়ি দাঁড়ালে মামলা দেয়। এগুলা অযথা দেয়।
আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) রকিবুল ইসলাম বলেন, বাসের মালিক ননী গোপাল সরকার কনডাক্টরকে গাড়িটি চালিয়ে নেওয়ার জন্য বলার কারণে চালক না হওয়া সত্ত্বেও গাড়িটি চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাই তার নির্দেশ দেওয়াটা ঠিক হয় নাই। তাই আসামি রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। রিমান্ডে গেলে মামলার তথ্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।
পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ১৯ মার্চ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে সুপ্রভাত বাসটি ছেড়ে আসে। তখন চালক ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। বাসটি গুলশানের শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকা পার হওয়ার অতিক্রম করার সময় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তখন পরিবহনের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে ট্রাফিক পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনাস্থলের কিছু দূরে বাসটি রাখা হয়। এসময় কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাত বাসের মালিকের কাছে ফোন দিয়ে জানায়, বাসটি এখানে থাকলে জনগণ পুড়িয়ে দিতে বা ভাঙচুর করতে পারে। তখন মালিক আরাফাতকে দ্রুত বাসটি সেখান থেকে নিয়ে সরে পড়তে বলেন। এরপর কন্ডাক্টর বাসটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার চৌধুরীর চাপা দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, চালকের ফাঁসির দাবিসহ আট দফা দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।