সোমবার (২৭ মে) বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও আব্দুস সোবহান তরফদার।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, ‘আসামিদের মধ্যে ছয় জন কারাগারে, দুই জন পলাতক। তাদের ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষী গ্রহণের জন্য ১৪ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।’
এরআগে, ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই বছরের ১১ডিসেম্বর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
এম এ হান্নান (৮০)সহ এ মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। অন্য চারজন হলেন, এম এ হান্নানের ছেলে রফিক সাজ্জাদ (৬২), ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমদ (৬৪), মিজানুর রহমান মিন্টু (৬৩) ও মো. হরমুজ আলী (৭৩)। আর পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালর ২৮ মার্চ আব্দুস সাত্তার (৬৪) আত্মসমর্পণ করলে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া পলাতক দুই আসামি হলেন ফখরুজ্জামান (৬১) ও খন্দকার গোলাম রব্বানী (৬৩)।
ফরমাল চার্জে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, গুম, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২১ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রিশাল উপজেলায় এসব অপরাধ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৯ মে এমপি হান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত করেন। এরপর ২০১৬ সালের ১১ জুলাই হান্নানসহ আট জনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত সংস্থা। ওই বছরের ১ অক্টোবর প্রসিকিউশনের আবেদনক্রমে এ মামলার আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ওইদিনই ঢাকায় গ্রেফতার হন এম এ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ। ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশালে গ্রেফতার হন বাকি তিনজন।