নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আবরার হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবি আসকের

আসকবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি। সোমবার (৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রলীগকর্মীদের পিটুনিতে আবরার ফাহাদ নামের এক ছাত্র মারা গেছেন। শিবিরকর্মী সন্দেহে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আসকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পেটান বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পরে দিবাগত রাত তিনটার দিকে আবাসিক হল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এমন অসভ্য ও বর্বরোচিত ঘটনায় আসক গভীরভাবে মর্মাহত। আসক ধিক্কার জানাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সেসব ছাত্রদের এবং প্রবীণ ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের, যারা নিজের সহপাঠীকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে। কোনও ব্যক্তিকে, তার বিশ্বাস যাই হোক না কেন, তাকে বেআইনিভাবে আঘাত করার অধিকার কারও নেই।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্রলীগের নানা বেপরোয়া আচরণ নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারপরও এই ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের আচরণ শোধরাচ্ছে না। ছাত্রলীগের এমন বেপরোয়া আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সাংগঠনিক ও আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যেন অন্য কোনও কর্মী এমন নিষ্ঠুর, অমানবিক ও বেআইনি কাজ করার স্পর্ধা না দেখাতে পারে, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবমুক্ত থেকে আবরার হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় আসক।