কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশার পক্ষে ডেপুটি জেলার মুমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ১১ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।
কারা অধিদফতরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ২০ জন চিকিৎসককে কারাগারে পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র চার জন যোগদান করেন। বাকি ১৬ জন এখনও যোগ দেননি। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে ওই ১৬ চিকিৎসক এখনও যোগদান না করার বিষয়টি আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, দেশে কারাবন্দিদের ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৪ জনের। এর বিপরীতে বর্তমানে কারাবন্দি আছেন ৮৬ হাজার ৯৯৮ জন (২৭ আগস্ট পর্যন্ত)।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আইনজীবী জেআর খান রবিন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাম্মী আকতার। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
প্রসঙ্গত, কারা চিকিৎসক সংকট নিয়ে দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আদালতে রিট দায়ের করেছিলেন আইনজীবী জেআর খান (রবিন)। পরে ২৩ জুন জারি করা রুলে কারাগারে আইনগত অধিকার নিশ্চিতে মানসম্মত থাকার জায়গা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না এবং বন্দিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কারা চিকিৎসকের শূন্য পদে নিয়োগ দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে তা জানতে চেয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব (সুরক্ষা বিভাগ), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও কারা মহাপরিদর্শককে এসব রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এছাড়া অপর এক আদেশে আদালত সারাদেশের সব কারাগারে বন্দিদের ধারণক্ষমতা, বন্দি ও চিকিৎসকের সংখ্যা এবং চিকিৎসকের শূন্যপদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।