ভিড়ের মধ্যেই আইএসের টুপি পেয়েছিল রিগ্যান!

আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের মাথায় আইএস’র টুপিগুলশানে হলি আর্টিজান হামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাকিবুল হাসান রিগ্যানসহ ছয় আসামিকে কল্যাণপুর জঙ্গি আস্তানা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে তাদের ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর বিচারক মজিবুর রহমান আইএসের টুপি পাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে রিগ্যান বলে, ‘ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন আমাকে আইএসের টুপি দিয়েছিল।’
গত ২৭ নভেম্বর, বুধবার গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলার রায় ঘোষণার জন্য রিগ্যানসহ অন্য আসামিদের সকাল সোয়া ১০টার দিকে আদালতের গারদে নেওয়া হয়। তখন রিগ্যানের মাথায় এই লোগোসহ টুপি ছিল না। রায় ঘোষণা শেষে অন্যান্য আসামির সঙ্গে বের করে আনার সময় তার মাথায় আইএসের লোগোসহ টুপি দেখা যায়। অন্য আসামিদের সঙ্গে রিগ্যানও এসময় ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে।
আজ কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা মামলার শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। এ কারণে সকাল থেকে আদালত চত্বরে ছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিন হলি আর্টিজান হামলা মামলায় ছয় আসামিসহ মোট সাত আসামিকে কারাগার থেকে মাথায় হেলমেট ও গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আবার তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলো−রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২১), সালাহ উদ্দিন কামরান (৩০), আব্দুর রউফ প্রধান (৬৩), আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ (২০), শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ওরফে সোলায়মান (২৫), মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে মামুন (৩০), আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট (২৮), মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর (৬০), আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নাসরুল্লা হক ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে কুল মেন (৩৩) ও হাদিসুর রহমান সাগর (৪০)।

এ মামলায় জামিন পাওয়া দুই আসামি হলো−আব্দুর রউফ প্রধান ও মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর। এছাড়া আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট পলাতক রয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘জাহাজ বিল্ডিং’ বাড়িতে রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ৯ জঙ্গি মারা যায়। হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে পুলিশ, অপর একজন পালিয়ে যায়। তারা সবাই জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
ওই ঘটনায় ২৭ জুলাই রাতে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।