এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রবিবার (২২ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি সরদার রাশেদ মো. জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও মো.ইফতাবুল কামাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। গত ২২ অক্টোবর শাহান আরা বেগমের এমপিও সুবিধা এক স্মারকের মাধ্যমে স্থগিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর।
ওই স্মারকে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগমের বিরুদ্ধে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখায় ২০১৮ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর ১৮(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগমের এমপিও স্থগিত করার জন্য মাউশি অধিদফতরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আইনজীবী ইফতাবুল কামাল বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণির পরীক্ষার্থীর বেশিরভাগই কাঠ পেন্সিলে পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষার খাতায় কাটাকাটি ও ঘষামাজা করার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তারা নিজেরাও কাটাকাটি ও ঘষামাজা করে থাকতে পারে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের পর কিংবা শিক্ষার্থীরা নিজেরা এসব কাটাকাটি ও ঘষামাজা করেছে, তা স্পষ্ট নয়।’ সুতরাং প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান ইফতাবুল কামাল। তাই ওই স্মারকের বৈধতা নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর রিট দায়ের করেন ঢাকার মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২২ অক্টোবর শাহান আরা বেগমের এমপিও সুবিধা স্থগিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে দেওয়া স্মারক কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভুত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (ঢাকা এলাকা), উপ পরিচালক (কলেজ-২), সহকারী পরিচালকসহ (কলেজ-৩) ১২ জনকে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।