সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সগিরা মোর্শেদসগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার ৩০ বছর পর ১৩০৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতের শাহবাগ থানার জিআর শাখায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

আসামিরা হলো, নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন,শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং ভাড়াটে মারুফ রেজা।
ছয় মাস তদন্তের পর পিবিআই এই অভিযোগপত্র দিল। অভিযোগপত্রে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলন১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সগিরা মোর্শেদকে। পিবিআই মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়েছে বলে জানান বনজ কুমার।

তিনি বলেন, ‘মামলটি যখন পিবিআইয়ের কাছ আসে তখন আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেই। তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারি সগিরা মোর্শেদের পরিবারের সঙ্গে আসামি শাহীনের বিভেদ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া শ্বাশুড়ি সগিরাকে অনেক পছন্দ করতেন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সগিরা-শাহীনেরও মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সম্বোধন করা নিয়েও পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। সগিরার কাজের মেয়েকে মারধর করে ডা. হাসান আলী চৌধুরী। এ নিয়ে পারিবারিক বৈঠকে শাহীন সগিরাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আসামিরা নিজেদের বাসায় বসে সগিরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডা. হাসান আলী তার চেম্বারে মারুফ রেজার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করে। ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই মারুফ রেজা ও আনাস মাহমুদ সগিরাকে গুলি করে হত্যা করে।’

প্রসঙ্গত, পিবিআইয়ের আগে এই মামলার তদন্ত করেন ২৫ জন কর্মকর্তা। বিভিন্ন সময় ২৫ জনকে গ্রেফতারও করা হয়। তবে জট খুলতে পারেনি কেউ।